কাপ্তাই লেক পেরিয়ে স্কুলে যাওয়া সেই মেয়েটি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ঘেরা রাঙামাটির কাপ্তাই লেক। এর নীল জলরাশি পর্যটকদের মুগ্ধ করলেও, এই লেকের ওপাড়ের গ্রামগুলোতে বেড়ে ওঠা শিশুদের কাছে এই পানি কেবল সৌন্দর্য নয়, বরং জীবনযুদ্ধের এক কঠিন পথ। বিশেষ করে পাহাড়ি বা জুম্ম নারীদের জন্য শিক্ষার আলো ঘরে তোলা মানেই ছিল প্রকৃতির সাথে লড়াই করে টিকে থাকা। এমনই এক অদম্য সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি হলেন সপ্তর্ষি চাকমা, যিনি বর্তমানে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।সম্প্রতি আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে অনলাইন নিউজ পোর্টাল 'পাবলিকিয়ান টুডে'-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সঞ্চিতা চক্রবর্তী মুখোমুখি হয়েছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সপ্তর্ষি চাকমা। সেই আলাপচারিতায় উঠে আসে তাঁর জীবন সংগ্রাম, জুম্ম নারীদের এগিয়ে চলা এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প।১৯৮৭ সালে রাঙামাটির মগবান ইউনিয়নের মোরঘোনা গ্রামে জন্ম সপ্তর্ষি চাকমার। নয় ভাই-বোনের বিশাল সংসারে বড় দিদি বীণা প্রভা চাকমার কাছেই ছিল তাঁর শিক্ষার হাতেখড়ি। কিন্তু গ্রামের প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর আসল চ্যালেঞ্জ শুরু হয় যখন তিনি রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব ঘোচাতে প্রতিদিন পাড়ি দিতে হতো উত্তাল কাপ্তাই লেক।সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সপ্তর্ষি চাকমা জানান, এক হাতে বইয়ের ব্যাগ আর অন্য হাতে নৌকার কাঠ ধরে লেক পাড়ি দেওয়া ছিল তাঁদের নিত্যদিনের সঙ্গী। মাঝেমধ্যে হুট করে বাতাসের গতি বেড়ে গেলে ছোট নৌকাটি যখন টালমাটাল হতো, মনে হতো লেক যেন তাদের গিলে খাবে। কিন্তু সেই ভয়কে জয় করেই তিনি এগিয়ে গেছেন। তিনি মনে করেন, সেই নৌকা চালানো কেবল যাতায়াত ছিল না, বরং তা ছিল জীবনের প্রতিকূলতা মোকাবিলা করার প্রথম পাঠ।জুম্ম সমাজে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পেছনে পরিবারের সমর্থনকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখেন সপ্তর্ষি। আট বোন ও এক ভাইয়ের সংসারে বড় দিদিরা ও দাদার উৎসাহ না থাকলে হয়তো আজ তিনি এই অবস্থানে আসতে পারতেন না। তাঁর মতে, "যখন একটি মেয়ে তার স্বপ্নের কথা বলে, পরিবারের ইতিবাচক সাড়াই হয় সেই স্বপ্ন গড়ার প্রথম ইট।" পাহাড়ি জনপদে আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার মাঝেও পরিবারের বিশ্বাসই একজন নারীকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।নৌকা বেয়ে স্কুলে যাওয়া সেই মেয়েটি এসএসসি ও এইচএসসিতে সফলতার স্বাক্ষর রেখে পাড়ি জমান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে বিবিএ ও এমবিএ শেষ করে আজ তিনি নিজের জেলায় ফিরে এসেছেন শিক্ষক হিসেবে। কাপ্তাই লেকের সেই ছোট্ট নৌকার স্মৃতি আজও তাঁকে আলোড়িত করে, যখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের লেকচার দেন।সপ্তর্ষি চাকমার এই জীবনগল্প কেবল একজন ব্যক্তির সাফল্য নয়, এটি পাহাড়ের প্রতিটি জুম্ম নারীর সংগ্রামের প্রতিফলন। তিনি বিশ্বাস করেন, নিজের ওপর আস্থা, মানসিক দৃঢ়তা এবং সঠিক শিক্ষা থাকলে যেকোনো নারীই সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারেন।তাঁর এই জয়যাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অদম্য ইচ্ছা আর পরিবারের সমর্থন থাকলে কাপ্তাই লেকের উত্তাল ঢেউও কোনো বাধা হতে পারে না। আজ তিনি পাহাড়ের অসংখ্য তরুণীর কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম, যা প্রমাণ করে যে জুম্ম নারীরা কেবল প্রকৃতির সাথে লড়াই করতেই জানেন না, তারা জ্ঞান আর মেধা দিয়ে সমাজকেও নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ঘেরা রাঙামাটির কাপ্তাই লেক। এর নীল জলরাশি পর্যটকদের মুগ্ধ করলেও, এই লেকের ওপাড়ের গ্রামগুলোতে বেড়ে ওঠা শিশুদের কাছে এই পানি কেবল সৌন্দর্য নয়, বরং জীবনযুদ্ধের এক কঠিন পথ। বিশেষ করে পাহাড়ি বা জুম্ম নারীদের জন্য শিক্ষার আলো ঘরে তোলা মানেই ছিল প্রকৃতির সাথে লড়াই করে টিকে থাকা। এমনই এক অদম্য সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি হলেন সপ্তর্ষি চাকমা, যিনি বর্তমানে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।সম্প্রতি আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে অনলাইন নিউজ পোর্টাল 'পাবলিকিয়ান টুডে'-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সঞ্চিতা চক্রবর্তী মুখোমুখি হয়েছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সপ্তর্ষি চাকমা। সেই আলাপচারিতায় উঠে আসে তাঁর জীবন সংগ্রাম, জুম্ম নারীদের এগিয়ে চলা এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প।১৯৮৭ সালে রাঙামাটির মগবান ইউনিয়নের মোরঘোনা গ্রামে জন্ম সপ্তর্ষি চাকমার। নয় ভাই-বোনের বিশাল সংসারে বড় দিদি বীণা প্রভা চাকমার কাছেই ছিল তাঁর শিক্ষার হাতেখড়ি। কিন্তু গ্রামের প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর আসল চ্যালেঞ্জ শুরু হয় যখন তিনি রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব ঘোচাতে প্রতিদিন পাড়ি দিতে হতো উত্তাল কাপ্তাই লেক।সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সপ্তর্ষি চাকমা জানান, এক হাতে বইয়ের ব্যাগ আর অন্য হাতে নৌকার কাঠ ধরে লেক পাড়ি দেওয়া ছিল তাঁদের নিত্যদিনের সঙ্গী। মাঝেমধ্যে হুট করে বাতাসের গতি বেড়ে গেলে ছোট নৌকাটি যখন টালমাটাল হতো, মনে হতো লেক যেন তাদের গিলে খাবে। কিন্তু সেই ভয়কে জয় করেই তিনি এগিয়ে গেছেন। তিনি মনে করেন, সেই নৌকা চালানো কেবল যাতায়াত ছিল না, বরং তা ছিল জীবনের প্রতিকূলতা মোকাবিলা করার প্রথম পাঠ।জুম্ম সমাজে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পেছনে পরিবারের সমর্থনকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখেন সপ্তর্ষি। আট বোন ও এক ভাইয়ের সংসারে বড় দিদিরা ও দাদার উৎসাহ না থাকলে হয়তো আজ তিনি এই অবস্থানে আসতে পারতেন না। তাঁর মতে, "যখন একটি মেয়ে তার স্বপ্নের কথা বলে, পরিবারের ইতিবাচক সাড়াই হয় সেই স্বপ্ন গড়ার প্রথম ইট।" পাহাড়ি জনপদে আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার মাঝেও পরিবারের বিশ্বাসই একজন নারীকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।নৌকা বেয়ে স্কুলে যাওয়া সেই মেয়েটি এসএসসি ও এইচএসসিতে সফলতার স্বাক্ষর রেখে পাড়ি জমান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে বিবিএ ও এমবিএ শেষ করে আজ তিনি নিজের জেলায় ফিরে এসেছেন শিক্ষক হিসেবে। কাপ্তাই লেকের সেই ছোট্ট নৌকার স্মৃতি আজও তাঁকে আলোড়িত করে, যখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের লেকচার দেন।সপ্তর্ষি চাকমার এই জীবনগল্প কেবল একজন ব্যক্তির সাফল্য নয়, এটি পাহাড়ের প্রতিটি জুম্ম নারীর সংগ্রামের প্রতিফলন। তিনি বিশ্বাস করেন, নিজের ওপর আস্থা, মানসিক দৃঢ়তা এবং সঠিক শিক্ষা থাকলে যেকোনো নারীই সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারেন।তাঁর এই জয়যাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অদম্য ইচ্ছা আর পরিবারের সমর্থন থাকলে কাপ্তাই লেকের উত্তাল ঢেউও কোনো বাধা হতে পারে না। আজ তিনি পাহাড়ের অসংখ্য তরুণীর কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম, যা প্রমাণ করে যে জুম্ম নারীরা কেবল প্রকৃতির সাথে লড়াই করতেই জানেন না, তারা জ্ঞান আর মেধা দিয়ে সমাজকেও নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।তথ্যসূত্র: পাবলিকিয়ান টুডে