পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা বিতরণ কর্মসূচিকে ঘিরে কক্সবাজারের উখিয়ায় চরম বিশৃঙ্খলা ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। বিতরণ চলাকালে একদল ব্যক্তি উশৃঙ্খলভাবে প্রায় ৫০টি ফুড প্যাকেট নিয়ে গেছে বলে আয়োজক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিতরণ সংস্থা "আল মানাহিল ফাউন্ডেশন" সূত্রে জানা যায়, বিদেশ থেকে সংগৃহীত অনুদানের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় অসহায় পরিবারের জন্য মোট ১ হাজার ৬৮টি খাদ্য প্যাক প্রস্তুত করা হয়। প্রতিটি প্যাকে ছিল ৩ কেজি তেল, ২ কেজি চিনি, ৫ কেজি চাল, ৩ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি লবণ ও খেজুর। সুষ্ঠু বণ্টনের লক্ষ্যে এসব প্যাকেট আনুষ্ঠানিকভাবে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট হস্তান্তরের কথা বলা হলেও এ বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
সংস্থাটির দাবি, স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দ খাদ্য সহায়তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমার বরাবর জমা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে প্রশাসন কীভাবে বণ্টন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, সে বিষয়ে তারা অবগত নয়।
তবে বিষয়টি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা বলেন, “ইউএনওর কাছে কোনো ত্রাণ সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়নি। যদি হস্তান্তর করা হতো, তাহলে আমার গুদাম থেকে মালামাল সরবরাহ করা হতো। কাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো ধরনের অনুমোদনও নেওয়া হয়নি।”
উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, বিতরণের দায়িত্ব স্থানীয় প্রভাবশালী দলের দুই সিনিয়র নেতা নেন। তবে তারা কীভাবে উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়ন ও বণ্টন করেছেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, প্রকৃত অসহায়দের পরিবর্তে সচ্ছল ব্যক্তিরা খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন। বৈষম্যমূলক বণ্টন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে প্রশাসনের কার্ডের ভিত্তিতে উখিয়া হাইস্কুল মাঠে পুনরায় বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু একপর্যায়ে সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সুযোগ বুঝে একদল ব্যক্তি ব্যাচ আকারে প্রায় ৫০টি প্যাকেট নিয়ে যায়। এতে বহু প্রকৃত উপকারভোগী সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।
এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আয়োজকরা জানিয়েছেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরও অবশিষ্ট ১ হাজার ১৮টি প্যাকেট সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এমন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ তাদের ন্যায্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দায়িত্বশীল কারো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা বিতরণ কর্মসূচিকে ঘিরে কক্সবাজারের উখিয়ায় চরম বিশৃঙ্খলা ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। বিতরণ চলাকালে একদল ব্যক্তি উশৃঙ্খলভাবে প্রায় ৫০টি ফুড প্যাকেট নিয়ে গেছে বলে আয়োজক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিতরণ সংস্থা "আল মানাহিল ফাউন্ডেশন" সূত্রে জানা যায়, বিদেশ থেকে সংগৃহীত অনুদানের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় অসহায় পরিবারের জন্য মোট ১ হাজার ৬৮টি খাদ্য প্যাক প্রস্তুত করা হয়। প্রতিটি প্যাকে ছিল ৩ কেজি তেল, ২ কেজি চিনি, ৫ কেজি চাল, ৩ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি লবণ ও খেজুর। সুষ্ঠু বণ্টনের লক্ষ্যে এসব প্যাকেট আনুষ্ঠানিকভাবে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট হস্তান্তরের কথা বলা হলেও এ বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
সংস্থাটির দাবি, স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দ খাদ্য সহায়তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমার বরাবর জমা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে প্রশাসন কীভাবে বণ্টন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, সে বিষয়ে তারা অবগত নয়।
তবে বিষয়টি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা বলেন, “ইউএনওর কাছে কোনো ত্রাণ সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়নি। যদি হস্তান্তর করা হতো, তাহলে আমার গুদাম থেকে মালামাল সরবরাহ করা হতো। কাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো ধরনের অনুমোদনও নেওয়া হয়নি।”
উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, বিতরণের দায়িত্ব স্থানীয় প্রভাবশালী দলের দুই সিনিয়র নেতা নেন। তবে তারা কীভাবে উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়ন ও বণ্টন করেছেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, প্রকৃত অসহায়দের পরিবর্তে সচ্ছল ব্যক্তিরা খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন। বৈষম্যমূলক বণ্টন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে প্রশাসনের কার্ডের ভিত্তিতে উখিয়া হাইস্কুল মাঠে পুনরায় বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু একপর্যায়ে সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সুযোগ বুঝে একদল ব্যক্তি ব্যাচ আকারে প্রায় ৫০টি প্যাকেট নিয়ে যায়। এতে বহু প্রকৃত উপকারভোগী সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।
এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আয়োজকরা জানিয়েছেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরও অবশিষ্ট ১ হাজার ১৮টি প্যাকেট সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এমন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ তাদের ন্যায্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দায়িত্বশীল কারো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন