পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের দীর্ঘ ২৮ বছরের ‘অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক’ শাসনের অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি, পার্বত্য ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এ এইচ এম ফারুক। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান জ্যোতিবিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমাকে জনসমর্থন প্রমাণের জন্য ব্যালট যুদ্ধের প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার (১ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই চ্যালেঞ্জ ও তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন।
বিবৃতিতে এ এইচ এম ফারুক বলেন, “আমি জন্মসূত্রে একজন পাহাড়ি, পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং বাংলাদেশের একজন গর্বিত নাগরিক। দেশের পবিত্র সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ১৯৯৮ সালে মাত্র ৫ বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে প্রায় তিন দশক (২৮ বছর) ধরে বিনা নির্বাচনে ‘প্রতিমন্ত্রী’ পদমর্যাদায় আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি দখল করে আছেন সন্তু লারমা। এটি পাহাড়ের আপামর জনগণের সাথে চরম প্রতারণা ও অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ড।”
বিবৃতিতে তিনি তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি ও চ্যালেঞ্জ পেশ করেন:
১. সংবিধানবিরোধী পার্বত্য চুক্তি সংস্কার: ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ (তথাকথিত শান্তি চুক্তি)-এর যে সকল ধারা ও উপধারা বাংলাদেশের এককেন্দ্রিক সংবিধানের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক, সেগুলো অনতিবিলম্বে বাতিল বা সংস্কার করতে হবে। ‘দ্বৈত শাসন’ বা ‘বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা’র নামে রাষ্ট্রের অখণ্ডতাকে হুমকির মুখে ফেলা আর সহ্য করা হবে না।
২. সন্তু লারমার প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ: সন্তু লারমার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আপনি অবৈধভাবে চেয়ারটি আঁকড়ে ধরে আছেন। যদি আপনার নূন্যতম সাহসিকতা ও জনসমর্থন থাকে, তবে জীবদ্দশায় অন্তত একবার গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশ নিন। অবৈধ দখলদারি ছেড়ে ব্যালট যুদ্ধের ময়দানে আসুন।”
৩. প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা:
এ এইচ এম ফারুক ঘোষণা করেন, “পাহাড় তথা বৃহত্তর চট্টগ্রামের একজন ভূমিপুত্র হিসেবে আমি আপনাকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি—আপনি নির্বাচনে আসুন, আমি আপনার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত। পাহাড়ের মানুষ এখন আর কোনো অদৃশ্য শক্তির রক্তচক্ষু নয়, বরং ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়।”
বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জমিদারি নয়, এটি বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে গণতন্ত্রের সূর্যোদয় ঘটাতে এবং সকল জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এ এইচ এম ফারুক পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার বাসিন্ধা। তিনি একজন সাংবাদিক ও সংগঠক। দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূ-রাজনীতি ও অধিকার নিয়ে গবেষণাধর্মী লেখালেখি করে আসছেন। সাবেক এ ছাত্রনেতা বর্তমানে ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি, পার্বত্য ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
তার এই চ্যালেঞ্জ পাহাড়ের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের দীর্ঘ ২৮ বছরের ‘অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক’ শাসনের অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি, পার্বত্য ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এ এইচ এম ফারুক। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান জ্যোতিবিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমাকে জনসমর্থন প্রমাণের জন্য ব্যালট যুদ্ধের প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার (১ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই চ্যালেঞ্জ ও তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন।
বিবৃতিতে এ এইচ এম ফারুক বলেন, “আমি জন্মসূত্রে একজন পাহাড়ি, পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং বাংলাদেশের একজন গর্বিত নাগরিক। দেশের পবিত্র সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ১৯৯৮ সালে মাত্র ৫ বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে প্রায় তিন দশক (২৮ বছর) ধরে বিনা নির্বাচনে ‘প্রতিমন্ত্রী’ পদমর্যাদায় আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি দখল করে আছেন সন্তু লারমা। এটি পাহাড়ের আপামর জনগণের সাথে চরম প্রতারণা ও অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ড।”
বিবৃতিতে তিনি তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি ও চ্যালেঞ্জ পেশ করেন:
১. সংবিধানবিরোধী পার্বত্য চুক্তি সংস্কার: ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ (তথাকথিত শান্তি চুক্তি)-এর যে সকল ধারা ও উপধারা বাংলাদেশের এককেন্দ্রিক সংবিধানের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক, সেগুলো অনতিবিলম্বে বাতিল বা সংস্কার করতে হবে। ‘দ্বৈত শাসন’ বা ‘বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা’র নামে রাষ্ট্রের অখণ্ডতাকে হুমকির মুখে ফেলা আর সহ্য করা হবে না।
২. সন্তু লারমার প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ: সন্তু লারমার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আপনি অবৈধভাবে চেয়ারটি আঁকড়ে ধরে আছেন। যদি আপনার নূন্যতম সাহসিকতা ও জনসমর্থন থাকে, তবে জীবদ্দশায় অন্তত একবার গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশ নিন। অবৈধ দখলদারি ছেড়ে ব্যালট যুদ্ধের ময়দানে আসুন।”
৩. প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা:
এ এইচ এম ফারুক ঘোষণা করেন, “পাহাড় তথা বৃহত্তর চট্টগ্রামের একজন ভূমিপুত্র হিসেবে আমি আপনাকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি—আপনি নির্বাচনে আসুন, আমি আপনার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত। পাহাড়ের মানুষ এখন আর কোনো অদৃশ্য শক্তির রক্তচক্ষু নয়, বরং ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়।”
বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জমিদারি নয়, এটি বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে গণতন্ত্রের সূর্যোদয় ঘটাতে এবং সকল জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এ এইচ এম ফারুক পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার বাসিন্ধা। তিনি একজন সাংবাদিক ও সংগঠক। দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূ-রাজনীতি ও অধিকার নিয়ে গবেষণাধর্মী লেখালেখি করে আসছেন। সাবেক এ ছাত্রনেতা বর্তমানে ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি, পার্বত্য ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
তার এই চ্যালেঞ্জ পাহাড়ের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন