প্রতিদিনের বান্দরবান

৮০ হাজার ইয়াবা ‘গায়েব’

ইয়াবা কাণ্ডে উখিয়া থানার ওসি-এসআই পুলিশ লাইনে



ইয়াবা কাণ্ডে উখিয়া থানার ওসি-এসআই পুলিশ লাইনে
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়া থানায় আলোচিত ইয়াবা আত্মসাৎ অভিযোগের ঘটনায় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূর আহামদ ও অভিযুক্ত এসআই সুমনকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ‘গায়েব’ হওয়ার অভিযোগ এবং থানার মালখানায় জব্দকৃত ইয়াবা বদলে নকল দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তুমুল আলোচনা চলছে।

জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন এর টিএনটি গুচ্ছগ্রাম এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়, ওই অভিযানে আনুমানিক ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবা থানার মালখানায় জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় করিম নামের এক ব্যক্তি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, অভিযানের পর কোনো মামলা রুজু হয়নি, জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়নি এবং থানার মালখানা বা সাধারণ ডায়েরিতে উদ্ধারকৃত মাদকের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অতীতে থানার মালখানায় সংরক্ষিত জব্দ ইয়াবা বদলে নকল ইয়াবা রাখার বিষয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া থানার ওসি নূর আহামদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। ওসি নূর আহামদ পূর্বে গণমাধ্যমকে জানান, অভিযানে কোনো ইয়াবা উদ্ধার হয়নি। অভিযুক্ত এসআই সুমনও দাবি করেন, তার নেতৃত্বে কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি।

তবে অভিযোগ প্রকাশের পর উখিয়া থানার ওই দুই কর্মকর্তাকে কক্সবাজার পুলিশ লাইন-এ সংযুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওসি নূর আহমদ উখিয়া থানায় যোগদানের পর মামলা গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ নিয়ে গেলে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হতো। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি।

সীমান্তবর্তী উখিয়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। এমন একটি এলাকায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ‘গায়েব’ হওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আপনার মতামত লিখুন

প্রতিদিনের বান্দরবান

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬


ইয়াবা কাণ্ডে উখিয়া থানার ওসি-এসআই পুলিশ লাইনে

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের উখিয়া থানায় আলোচিত ইয়াবা আত্মসাৎ অভিযোগের ঘটনায় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূর আহামদ ও অভিযুক্ত এসআই সুমনকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ‘গায়েব’ হওয়ার অভিযোগ এবং থানার মালখানায় জব্দকৃত ইয়াবা বদলে নকল দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তুমুল আলোচনা চলছে।


জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন এর টিএনটি গুচ্ছগ্রাম এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়, ওই অভিযানে আনুমানিক ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবা থানার মালখানায় জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।



এ ঘটনায় করিম নামের এক ব্যক্তি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, অভিযানের পর কোনো মামলা রুজু হয়নি, জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়নি এবং থানার মালখানা বা সাধারণ ডায়েরিতে উদ্ধারকৃত মাদকের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি।


অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অতীতে থানার মালখানায় সংরক্ষিত জব্দ ইয়াবা বদলে নকল ইয়াবা রাখার বিষয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া থানার ওসি নূর আহামদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। ওসি নূর আহামদ পূর্বে গণমাধ্যমকে জানান, অভিযানে কোনো ইয়াবা উদ্ধার হয়নি। অভিযুক্ত এসআই সুমনও দাবি করেন, তার নেতৃত্বে কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি।


তবে অভিযোগ প্রকাশের পর উখিয়া থানার ওই দুই কর্মকর্তাকে কক্সবাজার পুলিশ লাইন-এ সংযুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে।


এদিকে স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওসি নূর আহমদ উখিয়া থানায় যোগদানের পর মামলা গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ নিয়ে গেলে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হতো। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি।


সীমান্তবর্তী উখিয়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। এমন একটি এলাকায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ‘গায়েব’ হওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


প্রতিদিনের বান্দরবান

সম্পাদক ও প্রকাশকের কার্যালয়ঃ
কপিরাইট © ২০২৬ প্রতিদিনের বান্দরবান । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত