প্রতিদিনের বান্দরবান

ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের উদ্বোধনে আগামীকাল লামায় আসছেন পার্বত্য মন্ত্রী



ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের উদ্বোধনে আগামীকাল লামায় আসছেন পার্বত্য মন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানের লামা উপজেলায় প্রান্তিক ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি শুভ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আগামীকাল লামায় আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।

আগামীকাল ১০ মার্চ'২৬ মঙ্গলবার সকাল ১০'টায় লামা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এবং এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বান্দরবান ৩০০ নং আসনের এমপি সাচিংপ্রু জেরি। 

জানা যায়, পাইলট প্রকল্পের প্রথম ধাপে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ৯৭টি পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য নিয়মিত খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আগামীকাল অনুষ্ঠানের সভাপতি বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কার্ডের তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভূমিহীন পরিবার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, বেদে সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক কৃষকদের এই কর্মসূচির আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের নারী সদস্যদের নামেই ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মঈন উদ্দিন জানান, শুরুতে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ২৭৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ের সময় দেখা যায়, ১৩৮টি পরিবারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এনআইডি না থাকায় তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে চূড়ান্ত যাচাই শেষে ১ হাজার ৯৭টি পরিবারের তালিকা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলায় ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ মোট ১২টি জাতিগোষ্ঠীর অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও খাদ্য সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে। নিয়মিত খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল।

এই প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে লামা উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

আপনার মতামত লিখুন

প্রতিদিনের বান্দরবান

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬


ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের উদ্বোধনে আগামীকাল লামায় আসছেন পার্বত্য মন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের লামা উপজেলায় প্রান্তিক ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি শুভ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আগামীকাল লামায় আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।


আগামীকাল ১০ মার্চ'২৬ মঙ্গলবার সকাল ১০'টায় লামা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এবং এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।


এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বান্দরবান ৩০০ নং আসনের এমপি সাচিংপ্রু জেরি। 


জানা যায়, পাইলট প্রকল্পের প্রথম ধাপে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ৯৭টি পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য নিয়মিত খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আগামীকাল অনুষ্ঠানের সভাপতি বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি।


প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কার্ডের তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভূমিহীন পরিবার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, বেদে সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক কৃষকদের এই কর্মসূচির আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের নারী সদস্যদের নামেই ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে।


লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মঈন উদ্দিন জানান, শুরুতে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ২৭৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ের সময় দেখা যায়, ১৩৮টি পরিবারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এনআইডি না থাকায় তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে চূড়ান্ত যাচাই শেষে ১ হাজার ৯৭টি পরিবারের তালিকা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।


সংশ্লিষ্টদের মতে, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলায় ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ মোট ১২টি জাতিগোষ্ঠীর অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও খাদ্য সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে। নিয়মিত খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল।

এই প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে লামা উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।


প্রতিদিনের বান্দরবান

সম্পাদক ও প্রকাশকের কার্যালয়ঃ
কপিরাইট © ২০২৬ প্রতিদিনের বান্দরবান । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত