প্রতিদিনের বান্দরবান

প্রতি প্রকল্পে কমিশন নেন ১৫ শতাংশ

আলীকদমের পিআইও নিজেই একজন ঠিকাদার



আলীকদমের পিআইও নিজেই একজন ঠিকাদার
ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানের আলীকদম সরকারি দপ্তরের টেবিলে বসেই কমিশনের হিসাব চলছে, এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কেএম নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। 

অভিযোগ রয়েছে, শুধু কমিশন নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজেই ঠিকাদারি করছেন তিনি।

স্থানীয়রা বলছেন, নয়াপাড়া ইউনিয়নের দু’টি প্রকল্পের সভাপতি দেখিয়ে কাজ করে ফেলেছেন পিআইও নিজে। এসব কাজের বিলও তিনি উত্তোলন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের জনপ্রতিনিধিরা নিয়ম মেনে আবেদন জমা দিলেও ফাইল নড়ে না। কখনো কাগজপত্রে ত্রুটির অজুহাত, কখনো নতুন শর্তের বেড়াজাল—দিনের পর দিন আবেদনকারীদের ঘুরতে হয়। তবে নির্দিষ্ট অঙ্কের ‘কমিশন’ পৌঁছালেই ফাইলের গতি বদলে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি কাজের প্রকল্প থেকে কমিশন হিসেবে নেন প্রায় ১৫ শতাংশ।

আলীকদমে পিআইওর বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের অবস্থান কর্মসূচি অভিযোগের ইতিহাসও রয়েছে। গত ২৯ জুলাই ২০২৫ তিনি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় কিস্তি প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণাধীন বিল দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিলেন। এর আগে সুনামগঞ্জের দিরায় উপজেলা থেকে সংযুক্তিতে ত্রাণ অধিদপ্তরে কর্মরত থাকাকালীনও তার বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল। পরে শাস্তিমূলক হিসেবে আলীকদমে বদলি করা হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রতিটি প্রকল্প থেকে অফিসের নানা খরচ দেখিয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ কমিশন নেন। কমিশন না দিলে কাজের বিল আটকে রাখা হয়। চলতি অর্থবছরে নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেরিনচরপাড়া সোনে স্কুল রাস্তা মেরামত এবং বুজিরমুখপাড়া যাওয়ার যাত্রী ছাউনি নির্মাণ প্রকল্প দুটি নিজেই ঠিকাদার হয়ে বাস্তবায়ন করেছেন পিআইও।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক দুই ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, প্রতিটি কাজে প্রায় ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়া হয়। আগে এই হার ছিল প্রায় ২৫ শতাংশ। তবে এসব কমিশন ইউএনও জানেন না। স্থানীয় ঠিকাদার শামীম হোসেন বলেন, উপজেলায় একটি প্যাকেজে দুই ব্রিজ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ। পিআইও এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিটি ব্রিজের নানা খরচ দেখিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা করে আদায় করেছেন।

অভিযোগ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কেএম নজরুল ইসলাম রোববার সকালে ফোনে জানান, “এ বিষয়ে ফোনে কথা বলা ঠিক না, সরাসরি কথা বলব।” পরে কল কেটে দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মঞ্জুর আলম জানান, “পিআইও কমিশন বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। জনপ্রতিনিধিরা আমাকে জানায়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

প্রতিদিনের বান্দরবান

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬


আলীকদমের পিআইও নিজেই একজন ঠিকাদার

প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের আলীকদম সরকারি দপ্তরের টেবিলে বসেই কমিশনের হিসাব চলছে, এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কেএম নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। 


অভিযোগ রয়েছে, শুধু কমিশন নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজেই ঠিকাদারি করছেন তিনি।


স্থানীয়রা বলছেন, নয়াপাড়া ইউনিয়নের দু’টি প্রকল্পের সভাপতি দেখিয়ে কাজ করে ফেলেছেন পিআইও নিজে। এসব কাজের বিলও তিনি উত্তোলন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের জনপ্রতিনিধিরা নিয়ম মেনে আবেদন জমা দিলেও ফাইল নড়ে না। কখনো কাগজপত্রে ত্রুটির অজুহাত, কখনো নতুন শর্তের বেড়াজাল—দিনের পর দিন আবেদনকারীদের ঘুরতে হয়। তবে নির্দিষ্ট অঙ্কের ‘কমিশন’ পৌঁছালেই ফাইলের গতি বদলে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি কাজের প্রকল্প থেকে কমিশন হিসেবে নেন প্রায় ১৫ শতাংশ।


আলীকদমে পিআইওর বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের অবস্থান কর্মসূচি অভিযোগের ইতিহাসও রয়েছে। গত ২৯ জুলাই ২০২৫ তিনি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় কিস্তি প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণাধীন বিল দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিলেন। এর আগে সুনামগঞ্জের দিরায় উপজেলা থেকে সংযুক্তিতে ত্রাণ অধিদপ্তরে কর্মরত থাকাকালীনও তার বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল। পরে শাস্তিমূলক হিসেবে আলীকদমে বদলি করা হয়।


স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রতিটি প্রকল্প থেকে অফিসের নানা খরচ দেখিয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ কমিশন নেন। কমিশন না দিলে কাজের বিল আটকে রাখা হয়। চলতি অর্থবছরে নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেরিনচরপাড়া সোনে স্কুল রাস্তা মেরামত এবং বুজিরমুখপাড়া যাওয়ার যাত্রী ছাউনি নির্মাণ প্রকল্প দুটি নিজেই ঠিকাদার হয়ে বাস্তবায়ন করেছেন পিআইও।


নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক দুই ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, প্রতিটি কাজে প্রায় ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়া হয়। আগে এই হার ছিল প্রায় ২৫ শতাংশ। তবে এসব কমিশন ইউএনও জানেন না। স্থানীয় ঠিকাদার শামীম হোসেন বলেন, উপজেলায় একটি প্যাকেজে দুই ব্রিজ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ। পিআইও এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিটি ব্রিজের নানা খরচ দেখিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা করে আদায় করেছেন।


অভিযোগ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কেএম নজরুল ইসলাম রোববার সকালে ফোনে জানান, “এ বিষয়ে ফোনে কথা বলা ঠিক না, সরাসরি কথা বলব।” পরে কল কেটে দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মঞ্জুর আলম জানান, “পিআইও কমিশন বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। জনপ্রতিনিধিরা আমাকে জানায়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


প্রতিদিনের বান্দরবান

সম্পাদক ও প্রকাশকের কার্যালয়ঃ
কপিরাইট © ২০২৬ প্রতিদিনের বান্দরবান । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত