প্রতিদিনের বান্দরবান

ঈদের পর আসতে পারে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় যারা



ঈদের পর আসতে পারে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় যারা
ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসিরের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় কমিটির দুই বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ১ মার্চ। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদলের কমিটিরও মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। ২০২৪ সালের ১ মার্চ গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি এবং নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে উপদেষ্টারা দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার পরামর্শ দেন। এরপর থেকেই বিএনপির অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের মতো ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং এক নম্বর ইউনিট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে বলে জোড়ালো গুঞ্জন চলছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে কমিটি ভাঙার আলোচনা থাকলেও বিএনপির নির্বাচনী বিজয়ের পর পদপ্রত্যাশী নেতাদের তৎপরতা বেড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন শোডাউন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল এবং দলীয় কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

ছাত্রদলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন কমিটি নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ছিল। এখন মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে।



কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ছাত্রদলের কমিটি

ছাত্রদলের পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সিলেকশন পদ্ধতির পরিবর্তে দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনেরও বিষয়টিও এসেছে আলোচনায়৷ ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে শাখা ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১১মে একই ভাবে কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন করে চার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এ চার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হলো- উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভটেকনোলজি, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি।

নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নিয়েও নেতাকর্মীরা ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তারা বলেন, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত কোনো কমিটি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ক্ষমতায় থাকতে পারে না। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল এবং নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক কাজে উজ্জীবিত রাখতে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি হওয়াটা ইতিবাচক।

তারা বলেন, এবার কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের গুঞ্জন রয়েছে। তারা চান রাজপথে পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক। এতে কেউ পক্ষপাতিত্ব করে পছন্দের কাউকে নেতৃত্বে বসাতে পারবে না।

বিএনপির অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের ন্যায় ছাত্রদলের কমিটির ক্ষেত্রেও কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের গুঞ্জন রয়েছে।


কারা আসতে পারেন নতুন নেতৃত্বে

এবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদে ২০০৮-০৯ থেকে ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থীরা বিবেচনায় আসতে পারেন। ২০০৯–১০ সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ও ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল। একই সেশনের মনজরুল রিয়াদ, এজাজুল কবির রুয়েলও আলোচনায় আছেন।

২০০৯–১০ সেশন থেকে আলোচনায় আছেন বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান। এছাড়াও সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহমুদুল হাসান রনি, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শরিফ প্রধান শুভ, ঢাবি শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহরিয়ার হক মজুমদার শিমুলও আছেন আলোচনায়।

এদিকে ২০১০-১১ সেশনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, ঢাবি শাখার ১ নং সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক। আলোচনায় ঢাবি শাখার সিনিয়র সহ সভাপতি মাসুম বিল্লাহসহ বেশ কয়েকজন।

এছাড়া ২০১১–১২ সেশনের নেতাদের মধ্যেও আলোচনায় রয়েছেন ঢাবি ছাত্রদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, দ্বীন ইসলাম খান, নাছির উদ্দিন শাওন, তারেক হাসান মামুন, গাজী সাদ্দাম হোসেন, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, রাজু আহমেদ, সাইদুর রহমান, ইব্রাহিম খলিল, মাহমুদ ইসলাম কাজল, জাহিদ হাসান শাকিল, শামিম আকতার শুভ।

২০১২-১৩ সেশনে আলোচনায় রয়েছেন্ন, ঢাবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমন ,কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় সহ-সভাপতি মাহবুব আলম শাহিন, সৈকত মোর্শেদসহ বেশ কয়েকজন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় সম্ভাব্য নেতৃত্ব

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে বিবেচিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের এবারের নেতৃত্বে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় মূলত ২০১২–১৩, ২০১৩–১৪ এবং ২০১৫–১৬ সেশনের নেতারা বেশি আলোচনায় রয়েছেন।

২০১৩–১৪ সেশন থেকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, ইমাম আল নাসের মিশুক এবং জসিম খান।

এদিকে ২০১৪–১৫ সেশন থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্ব সাইফ খান। এছাড়াও বিএম কাউসার এবং ফেরদৌস আলম নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন। এছাড়া ২০১৫–১৬ সেশন থেকে রয়েছেন ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, বজলুর রহমান বিজয় এবং মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী।

অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত নবীন সেশন হিসেবে ২০১৬-১৭ সেশনের ঢাবি ছাত্রদলের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জিসান এবং ২০১৭–১৮ ঢাবি ছাত্রদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান আলোচনায় রয়েছেন।

আগামী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের কমিটি কীভাবে গঠিত হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে অতীতের কমিটি গঠনের ধারা অনুসরণ করলে কিছুটা ধারণা করা সম্ভব। যদিও এবার আগের মতো প্রক্রিয়া নাও হতে পারে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে উপস্থিত থাকায় নতুন কমিটি গঠনে তাঁর সরাসরি ভূমিকা থাকতে পারে বলেও আশা করছেন অনেক নেতাকর্মী।

কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় মেধাবী ও গ্রহণযোগ্য ছাত্রনেতাদের দিয়েই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

প্রতিদিনের বান্দরবান

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬


ঈদের পর আসতে পারে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় যারা

প্রকাশের তারিখ : ২০ মার্চ ২০২৬

featured Image

ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসিরের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় কমিটির দুই বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ১ মার্চ। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদলের কমিটিরও মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। ২০২৪ সালের ১ মার্চ গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি এবং নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে উপদেষ্টারা দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার পরামর্শ দেন। এরপর থেকেই বিএনপির অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের মতো ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং এক নম্বর ইউনিট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে বলে জোড়ালো গুঞ্জন চলছে।



ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে কমিটি ভাঙার আলোচনা থাকলেও বিএনপির নির্বাচনী বিজয়ের পর পদপ্রত্যাশী নেতাদের তৎপরতা বেড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন শোডাউন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল এবং দলীয় কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।


ছাত্রদলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন কমিটি নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ছিল। এখন মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে।



কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ছাত্রদলের কমিটি


ছাত্রদলের পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সিলেকশন পদ্ধতির পরিবর্তে দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনেরও বিষয়টিও এসেছে আলোচনায়৷ ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে শাখা ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে।


এর আগে ২০২৫ সালের ১১মে একই ভাবে কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন করে চার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এ চার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হলো- উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভটেকনোলজি, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি।


নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নিয়েও নেতাকর্মীরা ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তারা বলেন, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত কোনো কমিটি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ক্ষমতায় থাকতে পারে না। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল এবং নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক কাজে উজ্জীবিত রাখতে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি হওয়াটা ইতিবাচক।


তারা বলেন, এবার কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের গুঞ্জন রয়েছে। তারা চান রাজপথে পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক। এতে কেউ পক্ষপাতিত্ব করে পছন্দের কাউকে নেতৃত্বে বসাতে পারবে না।


বিএনপির অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের ন্যায় ছাত্রদলের কমিটির ক্ষেত্রেও কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের গুঞ্জন রয়েছে।


কারা আসতে পারেন নতুন নেতৃত্বে


এবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদে ২০০৮-০৯ থেকে ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থীরা বিবেচনায় আসতে পারেন। ২০০৯–১০ সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ও ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল। একই সেশনের মনজরুল রিয়াদ, এজাজুল কবির রুয়েলও আলোচনায় আছেন।


২০০৯–১০ সেশন থেকে আলোচনায় আছেন বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান। এছাড়াও সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহমুদুল হাসান রনি, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শরিফ প্রধান শুভ, ঢাবি শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহরিয়ার হক মজুমদার শিমুলও আছেন আলোচনায়।


এদিকে ২০১০-১১ সেশনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, ঢাবি শাখার ১ নং সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক। আলোচনায় ঢাবি শাখার সিনিয়র সহ সভাপতি মাসুম বিল্লাহসহ বেশ কয়েকজন।


এছাড়া ২০১১–১২ সেশনের নেতাদের মধ্যেও আলোচনায় রয়েছেন ঢাবি ছাত্রদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, দ্বীন ইসলাম খান, নাছির উদ্দিন শাওন, তারেক হাসান মামুন, গাজী সাদ্দাম হোসেন, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, রাজু আহমেদ, সাইদুর রহমান, ইব্রাহিম খলিল, মাহমুদ ইসলাম কাজল, জাহিদ হাসান শাকিল, শামিম আকতার শুভ।


২০১২-১৩ সেশনে আলোচনায় রয়েছেন্ন, ঢাবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমন ,কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় সহ-সভাপতি মাহবুব আলম শাহিন, সৈকত মোর্শেদসহ বেশ কয়েকজন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় সম্ভাব্য নেতৃত্ব


ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে বিবেচিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের এবারের নেতৃত্বে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় মূলত ২০১২–১৩, ২০১৩–১৪ এবং ২০১৫–১৬ সেশনের নেতারা বেশি আলোচনায় রয়েছেন।


২০১৩–১৪ সেশন থেকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, ইমাম আল নাসের মিশুক এবং জসিম খান।


এদিকে ২০১৪–১৫ সেশন থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্ব সাইফ খান। এছাড়াও বিএম কাউসার এবং ফেরদৌস আলম নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন। এছাড়া ২০১৫–১৬ সেশন থেকে রয়েছেন ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, বজলুর রহমান বিজয় এবং মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী।


অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত নবীন সেশন হিসেবে ২০১৬-১৭ সেশনের ঢাবি ছাত্রদলের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জিসান এবং ২০১৭–১৮ ঢাবি ছাত্রদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান আলোচনায় রয়েছেন।


আগামী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের কমিটি কীভাবে গঠিত হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে অতীতের কমিটি গঠনের ধারা অনুসরণ করলে কিছুটা ধারণা করা সম্ভব। যদিও এবার আগের মতো প্রক্রিয়া নাও হতে পারে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে উপস্থিত থাকায় নতুন কমিটি গঠনে তাঁর সরাসরি ভূমিকা থাকতে পারে বলেও আশা করছেন অনেক নেতাকর্মী।


কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় মেধাবী ও গ্রহণযোগ্য ছাত্রনেতাদের দিয়েই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


প্রতিদিনের বান্দরবান

সম্পাদক ও প্রকাশকের কার্যালয়ঃ
কপিরাইট © ২০২৬ প্রতিদিনের বান্দরবান । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত