বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী উত্তর করলিয়ামুরা আসদ আলী কারবারি পাড়া জামে মসজিদ পুনর্নির্মাণ শেষে শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে শনিবার (২১ মার্চ) শতাধিক মুসল্লীর উপস্থিতিতে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদটি প্রায় দুই শত বছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট সাল জানা না গেলেও, এটি বহু আগে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরে একাধিকবার স্থানান্তরিত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথমে প্রতিষ্ঠার পর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় আনুমানিক ১৯৪৭ সালে স্থানান্তরের তথ্য জানা যায়। দীর্ঘ সময় পর আবারও পুরোনো ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আবেগকে ধারণ করে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা ছিলেন এলাকার মরহুম আসদ আলী কারবারি। তার নামেই মসজিদ এবং এলাকার নামকরণ করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনি ছিলেন এ অঞ্চলের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের একজন সমাজসেবক ও তৎকালীন কারবারি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তিনি প্রায় ৬ কানি আবাদি জমি ওয়াকফ করে দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অত্র সমাজের সমাজপতি (সদ্দার) মো. শাহ আলম কারবারি, সাবেক সভাপতি মো. ছৈয়দ আলম কারবারি, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. গোলাম সোবহান, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদুল ইসলাম, ক্যাশিয়ার মো. মিজানুর রহমান এবং এলাকার গ্রাম পুলিশ মো. কামাল উদ্দিনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সমাজপতি (সদ্দার) মো. শাহ আলম কারবারি বলেন, “এটি শুধু একটি মসজিদ নয়, আমাদের পূর্বপুরুষের ঈমান, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। বহু বছরের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার জায়গা আজ নতুনভাবে দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই, এই মসজিদকে কেন্দ্র করে সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধ, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য আরও জোরদার হোক।”
সাবেক সমাজপতি (সদ্দার) মো. ছৈয়দ আলম কারবারি বলেন, “আমাদের বাপ-দাদার স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই মসজিদের সঙ্গে। দীর্ঘদিন পর পুনর্নির্মাণ শেষে মসজিদটি উদ্বোধন হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. গোলাম সোবহান বলেন, “স্থানীয় মুসল্লী, প্রবাসী ও সমাজের সচেতন মানুষের সহযোগিতায় মসজিদটি পুনর্নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি একটি সুন্দর, টেকসই ও সকলের উপযোগী ইবাদতের স্থান গড়ে তুলতে। এখন এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ধর্মীয় কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহেদুল ইসলাম বলেন, “ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি নতুনভাবে নির্মিত হওয়ায় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। ঈদের নামাজের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।”
মিজানুর রহমান বলেন, “মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়, এটি সমাজকে একত্র রাখার কেন্দ্রও বটে। এই মসজিদকে ঘিরে এলাকার মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে আমরা আশা করছি।”
গ্রাম পুলিশ মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “পুরোনো ঐতিহ্য রক্ষা করে নতুনভাবে মসজিদ নির্মাণ সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এটি এলাকাবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।”
ঈদের নামাজ শেষে মসজিদ প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আসদ আলী কারবারিসহ সংশ্লিষ্ট সকল দাতা ও মৃত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। এ সময় মসজিদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি এবং এলাকার শান্তি, উন্নয়ন ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করা হয়।

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৬
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী উত্তর করলিয়ামুরা আসদ আলী কারবারি পাড়া জামে মসজিদ পুনর্নির্মাণ শেষে শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে শনিবার (২১ মার্চ) শতাধিক মুসল্লীর উপস্থিতিতে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদটি প্রায় দুই শত বছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট সাল জানা না গেলেও, এটি বহু আগে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরে একাধিকবার স্থানান্তরিত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথমে প্রতিষ্ঠার পর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় আনুমানিক ১৯৪৭ সালে স্থানান্তরের তথ্য জানা যায়। দীর্ঘ সময় পর আবারও পুরোনো ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আবেগকে ধারণ করে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা ছিলেন এলাকার মরহুম আসদ আলী কারবারি। তার নামেই মসজিদ এবং এলাকার নামকরণ করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনি ছিলেন এ অঞ্চলের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের একজন সমাজসেবক ও তৎকালীন কারবারি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তিনি প্রায় ৬ কানি আবাদি জমি ওয়াকফ করে দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অত্র সমাজের সমাজপতি (সদ্দার) মো. শাহ আলম কারবারি, সাবেক সভাপতি মো. ছৈয়দ আলম কারবারি, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. গোলাম সোবহান, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদুল ইসলাম, ক্যাশিয়ার মো. মিজানুর রহমান এবং এলাকার গ্রাম পুলিশ মো. কামাল উদ্দিনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সমাজপতি (সদ্দার) মো. শাহ আলম কারবারি বলেন, “এটি শুধু একটি মসজিদ নয়, আমাদের পূর্বপুরুষের ঈমান, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। বহু বছরের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার জায়গা আজ নতুনভাবে দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই, এই মসজিদকে কেন্দ্র করে সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধ, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য আরও জোরদার হোক।”
সাবেক সমাজপতি (সদ্দার) মো. ছৈয়দ আলম কারবারি বলেন, “আমাদের বাপ-দাদার স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই মসজিদের সঙ্গে। দীর্ঘদিন পর পুনর্নির্মাণ শেষে মসজিদটি উদ্বোধন হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. গোলাম সোবহান বলেন, “স্থানীয় মুসল্লী, প্রবাসী ও সমাজের সচেতন মানুষের সহযোগিতায় মসজিদটি পুনর্নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি একটি সুন্দর, টেকসই ও সকলের উপযোগী ইবাদতের স্থান গড়ে তুলতে। এখন এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ধর্মীয় কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহেদুল ইসলাম বলেন, “ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি নতুনভাবে নির্মিত হওয়ায় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। ঈদের নামাজের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।”
মিজানুর রহমান বলেন, “মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়, এটি সমাজকে একত্র রাখার কেন্দ্রও বটে। এই মসজিদকে ঘিরে এলাকার মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে আমরা আশা করছি।”
গ্রাম পুলিশ মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “পুরোনো ঐতিহ্য রক্ষা করে নতুনভাবে মসজিদ নির্মাণ সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এটি এলাকাবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।”
ঈদের নামাজ শেষে মসজিদ প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আসদ আলী কারবারিসহ সংশ্লিষ্ট সকল দাতা ও মৃত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। এ সময় মসজিদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি এবং এলাকার শান্তি, উন্নয়ন ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন