বান্দরবানের লামায় অবস্থিত কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ বর্তমানে দেশের জিমন্যাস্টিকসের ‘বাতিঘর’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। সাংস্কৃতিক বিনিময় প্রোগ্রাম
অলিম্পিকে সোনা আমরা জিতবই- এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১২ সালে বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন-এর সহযোগিতায় এখানে জিমন্যাস্টিকস কার্যক্রম শুরু হয়। “আমরা পারি জিমন্যাস্টিকস” নামে পরিচালিত এই উদ্যোগটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রতিষ্ঠানটির জিমন্যাস্টরা ২০১৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ২১৮টি স্বর্ণ, ১৮৯টি রৌপ্য ও ১৪৯টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৫৫৬টি পদক অর্জন করেছে। এতে দেশের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। জাতীয় দলের হয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের জিমন্যাস্টরা ১২টি স্বর্ণ, ৯টি রৌপ্য ও ১৩টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৩৪টি পদক অর্জন করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুর ওপেন জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপ, জুনিয়র আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং সেন্ট্রাল সাউথ এশিয়ান জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপ।
বর্তমানে জাতীয় দলের হাইপারফরমেন্স ক্যাম্পে থাকা ১০ জন জিমন্যাস্টের মধ্যে ৯ জনই কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী, যা প্রতিষ্ঠানটির দক্ষতা ও অবদানের প্রমাণ বহন করে।
২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় যুব জিমন্যাস্টিকস প্রতিযোগিতায় দলগত ও ব্যক্তিগত উভয় বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে কোয়ান্টাম। প্রতিযোগিতার ৮৪টি পদকের মধ্যে ৫৩টিই তাদের ঝুলিতে যায়। একই বছর ৩৭তম জাতীয় সিনিয়র জিমন্যাস্টিকস প্রতিযোগিতায় পুরুষ বিভাগে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন এবং নারী বিভাগে দলগত চ্যাম্পিয়ন হয় প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া “তারুণ্যের উৎসব ২০২৫” আন্তঃস্কুল জিমন্যাস্টিকস প্রতিযোগিতায় ১১টি স্বর্ণ পদকের সবকটিই জিতে নেয় কোয়ান্টামের জিমন্যাস্টরা। ২য় বাংলাদেশ যুব গেমস ২০২৩-এ ৫০টি পদকের মধ্যে ৩৪টি অর্জনের পাশাপাশি ১৬টি স্বর্ণের মধ্যে ১৩টিই জিতে নেয় তারা। ৯ম বাংলাদেশ গেমসেও একক ও দলীয় উভয় বিভাগে রানারআপ হয় প্রতিষ্ঠানটি। সাংস্কৃতিক বিনিময় প্রোগ্রাম
২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ২০তম জিমন্যাস্টিকস ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের অর্জিত ১৩টি পদকের মধ্যে ১০টিই আসে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের জিমন্যাস্টদের হাত ধরে। জুনিয়র দলগত বিভাগে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বর্ণপদক জয়ের কৃতিত্বও অর্জিত হয় তাদের মাধ্যমে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক মানের কোচিং এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণের ফলে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ আজ দেশের জিমন্যাস্টিকসের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অলিম্পিকে সাফল্যের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এই প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৬
বান্দরবানের লামায় অবস্থিত কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ বর্তমানে দেশের জিমন্যাস্টিকসের ‘বাতিঘর’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। সাংস্কৃতিক বিনিময় প্রোগ্রাম
অলিম্পিকে সোনা আমরা জিতবই- এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১২ সালে বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন-এর সহযোগিতায় এখানে জিমন্যাস্টিকস কার্যক্রম শুরু হয়। “আমরা পারি জিমন্যাস্টিকস” নামে পরিচালিত এই উদ্যোগটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রতিষ্ঠানটির জিমন্যাস্টরা ২০১৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ২১৮টি স্বর্ণ, ১৮৯টি রৌপ্য ও ১৪৯টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৫৫৬টি পদক অর্জন করেছে। এতে দেশের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। জাতীয় দলের হয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের জিমন্যাস্টরা ১২টি স্বর্ণ, ৯টি রৌপ্য ও ১৩টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৩৪টি পদক অর্জন করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুর ওপেন জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপ, জুনিয়র আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং সেন্ট্রাল সাউথ এশিয়ান জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপ।
বর্তমানে জাতীয় দলের হাইপারফরমেন্স ক্যাম্পে থাকা ১০ জন জিমন্যাস্টের মধ্যে ৯ জনই কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী, যা প্রতিষ্ঠানটির দক্ষতা ও অবদানের প্রমাণ বহন করে।
২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় যুব জিমন্যাস্টিকস প্রতিযোগিতায় দলগত ও ব্যক্তিগত উভয় বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে কোয়ান্টাম। প্রতিযোগিতার ৮৪টি পদকের মধ্যে ৫৩টিই তাদের ঝুলিতে যায়। একই বছর ৩৭তম জাতীয় সিনিয়র জিমন্যাস্টিকস প্রতিযোগিতায় পুরুষ বিভাগে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন এবং নারী বিভাগে দলগত চ্যাম্পিয়ন হয় প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া “তারুণ্যের উৎসব ২০২৫” আন্তঃস্কুল জিমন্যাস্টিকস প্রতিযোগিতায় ১১টি স্বর্ণ পদকের সবকটিই জিতে নেয় কোয়ান্টামের জিমন্যাস্টরা। ২য় বাংলাদেশ যুব গেমস ২০২৩-এ ৫০টি পদকের মধ্যে ৩৪টি অর্জনের পাশাপাশি ১৬টি স্বর্ণের মধ্যে ১৩টিই জিতে নেয় তারা। ৯ম বাংলাদেশ গেমসেও একক ও দলীয় উভয় বিভাগে রানারআপ হয় প্রতিষ্ঠানটি। সাংস্কৃতিক বিনিময় প্রোগ্রাম
২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ২০তম জিমন্যাস্টিকস ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের অর্জিত ১৩টি পদকের মধ্যে ১০টিই আসে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের জিমন্যাস্টদের হাত ধরে। জুনিয়র দলগত বিভাগে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বর্ণপদক জয়ের কৃতিত্বও অর্জিত হয় তাদের মাধ্যমে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক মানের কোচিং এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণের ফলে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ আজ দেশের জিমন্যাস্টিকসের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অলিম্পিকে সাফল্যের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এই প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা

আপনার মতামত লিখুন