প্রতিদিনের বান্দরবান

উখিয়ায় পাচারের জন্য মজুদ ৩ হাজার লিটার এসিড জব্দ



উখিয়ায় পাচারের জন্য মজুদ ৩ হাজার লিটার এসিড জব্দ
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ স্টেশনের একটি মার্কেটের গুদামে মজুদ করা ৩ হাজার লিটার দাহ্য পদার্থ এসিড জব্দ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উখিয়া থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মীদের পরিচালিত অভিযানে এ বিপুল পরিমাণ এসিড জব্দ করা হয়।

প্রতিটি ৩০ লিটার করে ১০০ জেরিকেন ভর্তি ৩ হাজার লিটার এসিড মায়ানমারের আরাকান (রাখাইন) রাজ্যের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির কাছে পাঠানোর জন্য মজুদ করে রেখেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মীরা।

গোয়েন্দা কর্মীরা জানিয়েছেন, এসিড ভর্তি জেরিকেনে ‘হাইড্রোজেন পারক্সাইড, ৫০% (শিল্প গ্রেড); চিকিৎসা ব্যবহারের জন্য নয়; নেট ওজন : ৩৫ কেজি; উৎপাদনের দেশ : বাংলাদেশ; দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে আগুনে লাগার কারণ হতে পারে এবং গরম করলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে’ লেখা রয়েছে।

সেই সঙ্গে লেখা রয়েছে ‘আল-রাজি কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেড, চট্টগ্রাম’।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, নাফনদ তীরের নিকটবর্তী পালংখালী ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকাটি হচ্ছে রাখাইনে বাংলাদেশি পণ্য পাচারের অন্যতম প্রধান চোরাই পয়েন্ট। বাংলাদেশের দেশলাই থেকে শুরু করে জ্বালানি তেল ও খাবার তেলসহ নিত্যপণ্য প্রতিরাতে ওপারে দেদারসে পাচার হয়ে যাচ্ছে।

পালংখালী স্টেশনসহ বাজার থেকে এসব পণ্যের সঙ্গে মায়ানমারে পাচার হচ্ছে এসিডের মতো দাহ্য পদার্থ।

আরাকান আর্মি এসব দাহ্য পদার্থ বোমা এবং মাইনসহ বিস্ফোরক তৈরির কাজে ব্যবহার করতে বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে নিয়ে যায়। স্থানীয় সংঘবদ্ধ পাচারকারীর দল দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে এসব এনে গুদামে মজুদ করে। পরে সেখান থেকে পাচার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রের সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ স্টেশন এলাকায় অবস্থিত আলছমি মার্কেটের নিচতলায় একটি গুদামে অভিযান চালানো হয়।

মার্কেটের মালিক হলেন স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জাকারিয়া। গুদামটি পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া গ্রামের আক্তার হোসেন (৩২) নামের এক ব্যক্তি ভাড়া নেয়। এসময় দোকান থেকে ১০০টি জেরিকেনে রাখা প্রায় ৩ হাজার লিটার এসিড জব্দ করা হয়। আক্তার হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

অভিযান শেষে দোকানটি তালাবদ্ধ করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী ও মার্কেটের মালিক মোহাম্মদ জাকারিয়ার জিম্মায় দেওয়া হয়।

সেই সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল হক ও গ্রাম পুলিশ হোছন আহমদকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়। একই সঙ্গে একটি ৩০ লিটারের কনটেইনার নমুনা হিসেবে থানায় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মার্কেটের মালিক মো. জাকারিয়া (৫৩) জানান, আক্তার হোসেন তার কাছ থেকে দোকানটি গুদাম হিসেবে ভাড়া নিয়েছিলেন। সেখানে কী রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুদামের ভাড়াটিয়া আক্তার হোসেনের সঙ্গে আবদুর রহমান নামের স্থানীয় একজন বড় ব্যবসায়ী পাচারকাজে জড়িত রয়েছে।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, জব্দ এসিড মায়ানমারে পাচারের জন্য মজুদ করা হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে এসব এসিড এনে গোপনে মায়ানমারে পাচার করা হচ্ছিল। বিশেষ করে রাতের বেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার মাধ্যমে নিয়মিত এসব মালামাল সরিয়ে নেওয়া হতো।

এদিকে সচেতন মহলে উদ্বেগও বেড়েছে এ কারণে যে, বিপুল পরিমাণ এসিড ঘটনাস্থলেই রেখে দেওয়ায় তা পুনরায় পাচারের ঝুঁকি রয়েছে। পাচারকারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশে এসব গুদাম থেকে সরিয়ে ফেলার আশঙ্কাও করছেন অনেকেই। এসব দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জব্দ মালামাল পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

পুলিশ জানিয়েছে, যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে এসব দাহ্য পদার্থ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আপনার মতামত লিখুন

প্রতিদিনের বান্দরবান

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬


উখিয়ায় পাচারের জন্য মজুদ ৩ হাজার লিটার এসিড জব্দ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ স্টেশনের একটি মার্কেটের গুদামে মজুদ করা ৩ হাজার লিটার দাহ্য পদার্থ এসিড জব্দ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উখিয়া থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মীদের পরিচালিত অভিযানে এ বিপুল পরিমাণ এসিড জব্দ করা হয়।


প্রতিটি ৩০ লিটার করে ১০০ জেরিকেন ভর্তি ৩ হাজার লিটার এসিড মায়ানমারের আরাকান (রাখাইন) রাজ্যের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির কাছে পাঠানোর জন্য মজুদ করে রেখেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মীরা।


গোয়েন্দা কর্মীরা জানিয়েছেন, এসিড ভর্তি জেরিকেনে ‘হাইড্রোজেন পারক্সাইড, ৫০% (শিল্প গ্রেড); চিকিৎসা ব্যবহারের জন্য নয়; নেট ওজন : ৩৫ কেজি; উৎপাদনের দেশ : বাংলাদেশ; দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে আগুনে লাগার কারণ হতে পারে এবং গরম করলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে’ লেখা রয়েছে।



সেই সঙ্গে লেখা রয়েছে ‘আল-রাজি কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেড, চট্টগ্রাম’।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, নাফনদ তীরের নিকটবর্তী পালংখালী ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকাটি হচ্ছে রাখাইনে বাংলাদেশি পণ্য পাচারের অন্যতম প্রধান চোরাই পয়েন্ট। বাংলাদেশের দেশলাই থেকে শুরু করে জ্বালানি তেল ও খাবার তেলসহ নিত্যপণ্য প্রতিরাতে ওপারে দেদারসে পাচার হয়ে যাচ্ছে।


পালংখালী স্টেশনসহ বাজার থেকে এসব পণ্যের সঙ্গে মায়ানমারে পাচার হচ্ছে এসিডের মতো দাহ্য পদার্থ।



আরাকান আর্মি এসব দাহ্য পদার্থ বোমা এবং মাইনসহ বিস্ফোরক তৈরির কাজে ব্যবহার করতে বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে নিয়ে যায়। স্থানীয় সংঘবদ্ধ পাচারকারীর দল দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে এসব এনে গুদামে মজুদ করে। পরে সেখান থেকে পাচার করা হয়।


পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রের সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ স্টেশন এলাকায় অবস্থিত আলছমি মার্কেটের নিচতলায় একটি গুদামে অভিযান চালানো হয়।


মার্কেটের মালিক হলেন স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জাকারিয়া। গুদামটি পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া গ্রামের আক্তার হোসেন (৩২) নামের এক ব্যক্তি ভাড়া নেয়। এসময় দোকান থেকে ১০০টি জেরিকেনে রাখা প্রায় ৩ হাজার লিটার এসিড জব্দ করা হয়। আক্তার হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।


অভিযান শেষে দোকানটি তালাবদ্ধ করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী ও মার্কেটের মালিক মোহাম্মদ জাকারিয়ার জিম্মায় দেওয়া হয়।



সেই সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল হক ও গ্রাম পুলিশ হোছন আহমদকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়। একই সঙ্গে একটি ৩০ লিটারের কনটেইনার নমুনা হিসেবে থানায় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মার্কেটের মালিক মো. জাকারিয়া (৫৩) জানান, আক্তার হোসেন তার কাছ থেকে দোকানটি গুদাম হিসেবে ভাড়া নিয়েছিলেন। সেখানে কী রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। 


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুদামের ভাড়াটিয়া আক্তার হোসেনের সঙ্গে আবদুর রহমান নামের স্থানীয় একজন বড় ব্যবসায়ী পাচারকাজে জড়িত রয়েছে।


পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, জব্দ এসিড মায়ানমারে পাচারের জন্য মজুদ করা হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিস্তারিত জানা যাবে।


এদিকে স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে এসব এসিড এনে গোপনে মায়ানমারে পাচার করা হচ্ছিল। বিশেষ করে রাতের বেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার মাধ্যমে নিয়মিত এসব মালামাল সরিয়ে নেওয়া হতো।


এদিকে সচেতন মহলে উদ্বেগও বেড়েছে এ কারণে যে, বিপুল পরিমাণ এসিড ঘটনাস্থলেই রেখে দেওয়ায় তা পুনরায় পাচারের ঝুঁকি রয়েছে। পাচারকারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশে এসব গুদাম থেকে সরিয়ে ফেলার আশঙ্কাও করছেন অনেকেই। এসব দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জব্দ মালামাল পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


পুলিশ জানিয়েছে, যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে এসব দাহ্য পদার্থ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


প্রতিদিনের বান্দরবান

সম্পাদক ও প্রকাশকের কার্যালয়ঃ
কপিরাইট © ২০২৬ প্রতিদিনের বান্দরবান । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত