কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলাতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের প্রকোপ। এরই মধ্যে আইসিইউতে চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে প্রাণ হারিয়েছে জায়মা নূর নামের এক শিশু, যা পুরো এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
জানা গেছে, জায়মা নূর উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের দেবেঙ্গাপাড়া এলাকার নূরুল ইসলামের কন্যা। হামে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথমে মহেশখালী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে টানা চারদিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ বিকাল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় পুরো কক্সবাজার জেলাজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ জনে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পাওয়া গেছে মহেশখালী উপজেলায়—সংখ্যা ৯৬ জন।
সরকারি তথ্যমতে, এ পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে মহেশখালীর ২ জন বাসিন্দা রয়েছেন। ল্যাব পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে মহেশখালীর ১৪ জন এবং উখিয়ার ৮ জন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৭টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হলো টিকাদানের ঘাটতি ও সচেতনতার অভাব। মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুল হক জানান, “হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা দেওয়া না হলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।”
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সময়ে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক শিশুই টিকা পায়নি । ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
জায়মা নূরের মৃত্যু যেন আর কোনো পরিবারের জন্য পুনরাবৃত্তি না হয় এটাই এখন মহেশখালীবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা।

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলাতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের প্রকোপ। এরই মধ্যে আইসিইউতে চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে প্রাণ হারিয়েছে জায়মা নূর নামের এক শিশু, যা পুরো এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
জানা গেছে, জায়মা নূর উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের দেবেঙ্গাপাড়া এলাকার নূরুল ইসলামের কন্যা। হামে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথমে মহেশখালী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে টানা চারদিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ বিকাল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় পুরো কক্সবাজার জেলাজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ জনে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পাওয়া গেছে মহেশখালী উপজেলায়—সংখ্যা ৯৬ জন।
সরকারি তথ্যমতে, এ পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে মহেশখালীর ২ জন বাসিন্দা রয়েছেন। ল্যাব পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে মহেশখালীর ১৪ জন এবং উখিয়ার ৮ জন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৭টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হলো টিকাদানের ঘাটতি ও সচেতনতার অভাব। মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুল হক জানান, “হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা দেওয়া না হলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।”
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সময়ে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক শিশুই টিকা পায়নি । ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
জায়মা নূরের মৃত্যু যেন আর কোনো পরিবারের জন্য পুনরাবৃত্তি না হয় এটাই এখন মহেশখালীবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন