প্রতিদিনের বান্দরবান

লামায় কোয়ান্টাম বৃদ্ধাশ্রমের বিরোধপূর্ণ জমি উভয়ের সমঝোতায় নিষ্পত্তি



লামায় কোয়ান্টাম বৃদ্ধাশ্রমের বিরোধপূর্ণ জমি উভয়ের সমঝোতায় নিষ্পত্তি
ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের লম্বাখোলা এলাকায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বৃদ্ধাশ্রমের জমির সীমানা নিয়ে চলমান বিরোধ নিরসনে উভয় পক্ষের অংশগ্রহণে একটি জরুরি শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিরোধের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

‎বৈঠকে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফয়সাল আজিজ, পারভেজ মাসুদ, আসাদুজ্জামান খান, সাজেদুর রহমান, মনোয়ার হোসেন ও হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আব্দুল গফুরের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কামাল উদ্দিন (রাবার কামাল), আব্দুল গফুর, সরই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদীন, আনোয়ার হোসেন এবং গ্রাম সর্দার রফিকুল ইসলাম।

‎শালিশ বৈঠকে লামা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুম সরদার এবং লামা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাসির উদ্দিন উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয়, বিরোধপূর্ণ জমিতে কোনো পক্ষই নতুন করে সীমানা নির্ধারণ বা কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। এছাড়া উভয় পক্ষ নিজ নিজ বর্তমান দখল অনুযায়ী স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখবে।

‎বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন স্থানে টানানো আপত্তিকর ও উসকানিমূলক সব ধরনের ব্যানার অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর উভয় পক্ষ যৌথভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে সরকারি সার্ভেয়ার নিয়োগের আবেদন করবে। পরে সরকারি সার্ভেয়ার মূল দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে বিরোধপূর্ণ জমি পরিমাপের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করবেন এবং উভয় পক্ষ সেই সিদ্ধান্ত মেনে চলবে।

‎এ ছাড়া সরই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদীনকে আপত্তিকর ব্যানার অপসারণ এবং জমি পরিমাপের বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও মধ্যস্থতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

‎বিষয়টি নিশ্চিত করে লামা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় পক্ষের সম্মতিতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনো পক্ষ সিদ্ধান্ত অমান্য করলে অথবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎উল্লেখ্য, গত ২০ জুন সরই ইউনিয়নের লম্বাখোলা এলাকায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বৃদ্ধাশ্রমের জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি সালিশ বৈঠকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আপনার মতামত লিখুন

প্রতিদিনের বান্দরবান

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


লামায় কোয়ান্টাম বৃদ্ধাশ্রমের বিরোধপূর্ণ জমি উভয়ের সমঝোতায় নিষ্পত্তি

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের লম্বাখোলা এলাকায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বৃদ্ধাশ্রমের জমির সীমানা নিয়ে চলমান বিরোধ নিরসনে উভয় পক্ষের অংশগ্রহণে একটি জরুরি শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিরোধের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

‎বৈঠকে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফয়সাল আজিজ, পারভেজ মাসুদ, আসাদুজ্জামান খান, সাজেদুর রহমান, মনোয়ার হোসেন ও হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আব্দুল গফুরের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কামাল উদ্দিন (রাবার কামাল), আব্দুল গফুর, সরই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদীন, আনোয়ার হোসেন এবং গ্রাম সর্দার রফিকুল ইসলাম।

‎শালিশ বৈঠকে লামা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুম সরদার এবং লামা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাসির উদ্দিন উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয়, বিরোধপূর্ণ জমিতে কোনো পক্ষই নতুন করে সীমানা নির্ধারণ বা কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। এছাড়া উভয় পক্ষ নিজ নিজ বর্তমান দখল অনুযায়ী স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখবে।

‎বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন স্থানে টানানো আপত্তিকর ও উসকানিমূলক সব ধরনের ব্যানার অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর উভয় পক্ষ যৌথভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে সরকারি সার্ভেয়ার নিয়োগের আবেদন করবে। পরে সরকারি সার্ভেয়ার মূল দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে বিরোধপূর্ণ জমি পরিমাপের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করবেন এবং উভয় পক্ষ সেই সিদ্ধান্ত মেনে চলবে।

‎এ ছাড়া সরই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদীনকে আপত্তিকর ব্যানার অপসারণ এবং জমি পরিমাপের বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও মধ্যস্থতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

‎বিষয়টি নিশ্চিত করে লামা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় পক্ষের সম্মতিতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনো পক্ষ সিদ্ধান্ত অমান্য করলে অথবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎উল্লেখ্য, গত ২০ জুন সরই ইউনিয়নের লম্বাখোলা এলাকায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বৃদ্ধাশ্রমের জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি সালিশ বৈঠকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।


প্রতিদিনের বান্দরবান

সম্পাদক ও প্রকাশকের কার্যালয়ঃ
কপিরাইট © ২০২৬ প্রতিদিনের বান্দরবান । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত