প্রতিদিনের বান্দরবান

লামার ফাইতংয়ে দুই বোনের ভূমি জালিয়াতির ফাঁদ: অতিষ্ঠ স্থানীয় মানুষ



লামার ফাইতংয়ে দুই বোনের ভূমি জালিয়াতির ফাঁদ: অতিষ্ঠ স্থানীয় মানুষ
ছবি: প্রতিদিনের বান্দরবান

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে দরিদ্রতা ও অসহায়ত্বকে পুঁজি করে দুই বোনের ভূমি জালিয়াতির ঘটনায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছে এলাকার মানুষ। একই জায়গা একাধিক ব্যক্তিকে বিক্রি, আবার কাউকে বিক্রি করে কাগজ না দেয়ায় চরম জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। দরিদ্র ও অসহায়ত্ব যেন একমাত্র পুঁজি দুই বোন মদিনা বেগম (৫০) ও জরিনা বেগম (৪৭) এর। তারা লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ফাদুরছড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দু ছালাম ও মৃত খুরশিদা খাতুনের কন্যা। এদিকে তাদের অজ্ঞতাকে পুঁজি করে একটি চক্র জমির ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম, হামিদা আক্তার, মোঃ লালু,নুরুল কবির ও জাহাঙ্গীল আলম সহ অনেকে।   

জানা যায়, মদিনা বেগম ও জরিনা বেগমের পিতা মৃত আবদু ছালাম লামা উপজেলার ৩০৬নং ফাইতং মৌজার ফাদুরছড়া এলাকায় আর/৩৩০ নং হোল্ডিং মূলে ৫ একর ৩য় শ্রেণীর জায়গা মালিক। ২০১৭ সালে ‘মক্কা মদিনা ব্রিকস (এমএমবি)’ নামে একটি ইটভাটা স্থাপন করতে আগ্রহী হলে জায়গার মালিক মৃত আবদু ছালাম এর স্ত্রী খুরশিদা খাতুন ও দুই মেয়ে মদিনা বেগম ও জরিনা বেগম ৫ বছরের জন্য উক্ত জায়গা ভাড়া চুক্তি করেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ না হতেই দুই বোন লোভে উক্ত জায়গা জনৈক রুহুল আমিনের কাছে ২০১৯ সালের ১৬ এপ্রিল চুক্তিনামা দলিল নং-২৮৮/২০১৯ মূলে ৪ একর ৯০ শতক জায়গা বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে মামলা মোকাদ্দমা হলে দেওয়ানী আদালত রুহুল আমিনকে বৈধ মালিক স্বীকৃতি দেয়। 

ভাটার মালিক মুমিনুল ইসলাম ও গিয়াস উদ্দিন জানান, যেহেতু উক্ত জায়গায় ইতিমধ্যে এমএমবি ইটভাটা গড়ে উঠে তাই উক্ত ভাটার মালিক ওয়াহিদুল ইসলাম বায়নানামা দলিল নং-৩০৫/২০২১ এবং ২৪২/২০২২ মূলে ৩ একর ১০ শতক জায়গা রুহুল আমিন হতে ক্রয় করেন। ইটভাটার আরেক শেয়ারদার ফরিদ উদ্দিন রুহুল আমিনের বাকী অংশ ক্রয় করেন। জায়গার মূল মালিক মৃত আবদু ছালাম এর ২য় স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। তারাও এই সম্পত্তির মালিক। তাই ভাটার অন্য শেয়ারদার গিয়াস উদ্দিন ২য় স্ত্রী ও সন্তানের কাছ থেকে তাদের অংশ কিনে নেয়। এছাড়া পাশর্বর্তী জনৈক আলী আহমদ এর ছেলে আলী হোসেনের কাছ থেকে ৫ একর জায়গা ইটভাটার জন্য ভাড়া নেয়া আছে। আমাদের যে পরিমাণ জায়গা রেকর্ডপত্রে আছে ততটুকু জায়গা আমাদের দখলে নেই। তারপরেও তারা আমাদের থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে না পেরে মনগড়া ও মিথ্যা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।  

রুহুল আমিনকে ৪ একর ৯০ শতক জায়গা বিক্রির পরেও মদিনা বেগম ও জরিনা বেগম জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তথ্য গোপন করে আবু বক্কর ছিদ্দিকের স্ত্রী মমতাজ বেগমের কাছে ৩০ শতক, জাহাঙ্গীর আলমের কাছে ৩০ শতক, হামিদা বেগমের কাছে ১০ শতক, মোঃ লালুর কাছে ১০ শতক এবং নুরুল কবির এর কাছে ১০ শতক মোট ৯০ শতক জায়গা গ্রাম্য কাগজের বিক্রি করে। উক্ত ক্রেতারা জানান, তাদের জায়গা বিক্রি করে দখল দিলেও কোন কাগজ দেয়নি। বার বার বলার পরেও মদিনা বেগম ও জরিনা বেগম এড়িয়ে যাচ্ছে। মমতাজ বেগম বলেন, দুই বোন এখন এই এলাকায় থাকেনা। জায়গা বিক্রি করে অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে মদিনা ও জরিনা কিছু ভূমিদস্যু ও দালাল লোকজনকে নিয়ে ইটভাটা ও আমাদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করছে। টাকা না দেয়ায় তারা মিথ্যা, অসত্য ও মনগড়া তথ্য দিয়ে নিউজ করছে।  

মদিনা বেগম জানান, এই জায়গা আমাদের। আমরা কোন জায়গা বিক্রি করিনি। ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে আমাদের জায়গা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার এবং অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। 

এই বিষয়ে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ কাইছার হামিদ বলেন, বিষয়টি ভূমি বিরোধ। আদালত সৃষ্ট সমস্যার সমাধান দিবেন। এই ঘটনায় যেন আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয় এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ফাইতং পুলিশ ফাঁড়িকে বলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

প্রতিদিনের বান্দরবান

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


লামার ফাইতংয়ে দুই বোনের ভূমি জালিয়াতির ফাঁদ: অতিষ্ঠ স্থানীয় মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে দরিদ্রতা ও অসহায়ত্বকে পুঁজি করে দুই বোনের ভূমি জালিয়াতির ঘটনায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছে এলাকার মানুষ। একই জায়গা একাধিক ব্যক্তিকে বিক্রি, আবার কাউকে বিক্রি করে কাগজ না দেয়ায় চরম জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। দরিদ্র ও অসহায়ত্ব যেন একমাত্র পুঁজি দুই বোন মদিনা বেগম (৫০) ও জরিনা বেগম (৪৭) এর। তারা লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ফাদুরছড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দু ছালাম ও মৃত খুরশিদা খাতুনের কন্যা। এদিকে তাদের অজ্ঞতাকে পুঁজি করে একটি চক্র জমির ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম, হামিদা আক্তার, মোঃ লালু,নুরুল কবির ও জাহাঙ্গীল আলম সহ অনেকে।   


জানা যায়, মদিনা বেগম ও জরিনা বেগমের পিতা মৃত আবদু ছালাম লামা উপজেলার ৩০৬নং ফাইতং মৌজার ফাদুরছড়া এলাকায় আর/৩৩০ নং হোল্ডিং মূলে ৫ একর ৩য় শ্রেণীর জায়গা মালিক। ২০১৭ সালে ‘মক্কা মদিনা ব্রিকস (এমএমবি)’ নামে একটি ইটভাটা স্থাপন করতে আগ্রহী হলে জায়গার মালিক মৃত আবদু ছালাম এর স্ত্রী খুরশিদা খাতুন ও দুই মেয়ে মদিনা বেগম ও জরিনা বেগম ৫ বছরের জন্য উক্ত জায়গা ভাড়া চুক্তি করেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ না হতেই দুই বোন লোভে উক্ত জায়গা জনৈক রুহুল আমিনের কাছে ২০১৯ সালের ১৬ এপ্রিল চুক্তিনামা দলিল নং-২৮৮/২০১৯ মূলে ৪ একর ৯০ শতক জায়গা বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে মামলা মোকাদ্দমা হলে দেওয়ানী আদালত রুহুল আমিনকে বৈধ মালিক স্বীকৃতি দেয়। 


ভাটার মালিক মুমিনুল ইসলাম ও গিয়াস উদ্দিন জানান, যেহেতু উক্ত জায়গায় ইতিমধ্যে এমএমবি ইটভাটা গড়ে উঠে তাই উক্ত ভাটার মালিক ওয়াহিদুল ইসলাম বায়নানামা দলিল নং-৩০৫/২০২১ এবং ২৪২/২০২২ মূলে ৩ একর ১০ শতক জায়গা রুহুল আমিন হতে ক্রয় করেন। ইটভাটার আরেক শেয়ারদার ফরিদ উদ্দিন রুহুল আমিনের বাকী অংশ ক্রয় করেন। জায়গার মূল মালিক মৃত আবদু ছালাম এর ২য় স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। তারাও এই সম্পত্তির মালিক। তাই ভাটার অন্য শেয়ারদার গিয়াস উদ্দিন ২য় স্ত্রী ও সন্তানের কাছ থেকে তাদের অংশ কিনে নেয়। এছাড়া পাশর্বর্তী জনৈক আলী আহমদ এর ছেলে আলী হোসেনের কাছ থেকে ৫ একর জায়গা ইটভাটার জন্য ভাড়া নেয়া আছে। আমাদের যে পরিমাণ জায়গা রেকর্ডপত্রে আছে ততটুকু জায়গা আমাদের দখলে নেই। তারপরেও তারা আমাদের থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে না পেরে মনগড়া ও মিথ্যা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।  


রুহুল আমিনকে ৪ একর ৯০ শতক জায়গা বিক্রির পরেও মদিনা বেগম ও জরিনা বেগম জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তথ্য গোপন করে আবু বক্কর ছিদ্দিকের স্ত্রী মমতাজ বেগমের কাছে ৩০ শতক, জাহাঙ্গীর আলমের কাছে ৩০ শতক, হামিদা বেগমের কাছে ১০ শতক, মোঃ লালুর কাছে ১০ শতক এবং নুরুল কবির এর কাছে ১০ শতক মোট ৯০ শতক জায়গা গ্রাম্য কাগজের বিক্রি করে। উক্ত ক্রেতারা জানান, তাদের জায়গা বিক্রি করে দখল দিলেও কোন কাগজ দেয়নি। বার বার বলার পরেও মদিনা বেগম ও জরিনা বেগম এড়িয়ে যাচ্ছে। মমতাজ বেগম বলেন, দুই বোন এখন এই এলাকায় থাকেনা। জায়গা বিক্রি করে অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে মদিনা ও জরিনা কিছু ভূমিদস্যু ও দালাল লোকজনকে নিয়ে ইটভাটা ও আমাদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করছে। টাকা না দেয়ায় তারা মিথ্যা, অসত্য ও মনগড়া তথ্য দিয়ে নিউজ করছে।  


মদিনা বেগম জানান, এই জায়গা আমাদের। আমরা কোন জায়গা বিক্রি করিনি। ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে আমাদের জায়গা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার এবং অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। 


এই বিষয়ে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ কাইছার হামিদ বলেন, বিষয়টি ভূমি বিরোধ। আদালত সৃষ্ট সমস্যার সমাধান দিবেন। এই ঘটনায় যেন আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয় এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ফাইতং পুলিশ ফাঁড়িকে বলা হয়েছে।


প্রতিদিনের বান্দরবান

সম্পাদক ও প্রকাশকের কার্যালয়ঃ
কপিরাইট © ২০২৬ প্রতিদিনের বান্দরবান । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত