প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬
বাকপ্রতিবন্ধী মার্মা তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের বান্দরবান ||
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার ২ নং হাফছড়ি ইউনিয়নের উত্তর হাফছড়ি মার্মা পাড়ার ২১ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী উপজাতীয় তরুণী নিখোজের সাত দিন পর তাকে ৯ মার্চ জালিয়াপাড়া এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে মানিকছড়ি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসা ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎক।মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সরেজমিনে ভিকটিমের বাসায় গিয়ে দেখা যায় হাতে স্যালাইন লাগানো অবস্থায় মন্দিরে বারান্দায় শুয়ে আছে মেয়েটি।জানা যায়, গত ৩ মার্চ জালিয়াপাড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ। পরিবারের উৎকণ্ঠা, এলাকাজুড়ে খোঁজাখুঁজির পর সোমবার (৯ মার্চ) জালিয়াপাড়া থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ভিকটিমের মুঠোফোনের সূত্র ধরে গড়াইছড়ি এলাকা থেকে অংক্যজাই মার্মা (৩৭) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে।তিনি মহালছড়ি উপজেলার তিন্দুক ছড়ি পাড়া গ্রামের কংঅং মারমার ছেলে। আটক ব্যক্তির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ক্যজই মার্মা (৫০) ইতোমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।অভিযোগ উঠেছে আটক ব্যক্তিকে সরাসরি আইনের হাতে সোপর্দ করার বদলে তাকে স্থানীয় চেয়ারম্যানের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং কিছু আঞ্চলিক প্রভাবশালী মহল পুরো ঘটনাকে সামাজিকভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করছে। ভিকটিমের পরিবারকে আইনি পথে না যেতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে সিন্দুকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রেদাক মারমার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।ভিক্টিমের বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ে একজন বাকপ্রতিবন্ধী সে নিজের কষ্টটুকুও ঠিকভাবে ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না। অংকজায় আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে নির্যাতন করেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।উত্তর হাফছড়ি পাড়া বৌদ্ধ বিহারের ধর্মরক্ষিত নেনাচরা ভান্তে বলেন, ‘মেয়েটিকে অপহরণ করে ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনা অপ্রত্যাশিত আমরা এর বিচার চাই।’ গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দি বলেন, ‘মেয়েটি হারানো গছে মর্মে একটি জিডি করা হয়েছিল। ধর্ষণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিদিনের বান্দরবান
কপিরাইট © ২০২৬ প্রতিদিনের বান্দরবান । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত