প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬
গর্তযুক্ত রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্সের ঝাঁকুনিতে জেগে উঠলো ‘ব্রেন ডেড’ নারী
ডেস্ক নিউজ, প্রতিদিনের বান্দরবান ||
ভারতের উত্তর প্রদেশে এক অবাক করা ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকদের ঘোষিত 'ব্রেন ডেড' পর্যায়ে থাকা এক রোগী গর্তযুক্ত রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্সের ঝাঁকুনিতে ফের স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে শুরু করেন। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটিকে অলৌকিক বলে দাবি করেছেন।ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিনীতা শুক্লা নামের ৫০ বছর বয়সী ওই নারী দেশটির উত্তর প্রদেশের পিলিভিট এলাকার বাসিন্দা। গত ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত রাজ্যের বেরেইলি শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তার মস্তিষ্কের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং তিনি কার্যত ব্রেন ডেড অবস্থায় রয়েছেন।চিকিৎসকদের এমন ঘোষণায় মানসিকভাবে ওই নারীর পরিবার অনেকটাই ভেঙে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২৪ ফেব্রুয়ারি তাকে শেষকৃত্যের জন্য বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। তার স্বামী কুলদীপ কুমার শুক্লা জানান, তখন বিনীতা শ্বাস নিচ্ছিলেন না, শুধু খুব দুর্বলভাবে হৃৎস্পন্দন চলছিল।এ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে বাড়িতে নেওয়ার সময় বেরেইলি-হরিদ্বার মহাসড়ক-এর হাফিজগঞ্জ এলাকায় একটি বড় গর্তে পড়লে গাড়িটিতে তীব্র ঝাঁকুনি লাগে।ঠিক সেই ধাক্কার পরই হঠাৎ স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে শুরু করেন বিনীতা। বিষয়টি দেখে পরিবারের সদস্যরা বিস্মিত হয়ে যান এবং শেষকৃত্যের সব প্রস্তুতি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেন। এরপর তাকে দ্রুত নিউরোসিটি হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে নতুন করে চিকিৎসা শুরু করেন।কুলদীপ কুমার বলেন, 'ডাক্তার বলেছিলেন, কোনও আশা নেই। আমি বাড়িতে ফোন করে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু করতে বলে দিয়েছিলাম। রাস্তায় আমাদের অ্যাম্বুলেন্স একটা গর্তে পড়ে খুব জোরে লাফিয়ে ওঠে। এরপরই আমার স্ত্রীর শ্বাসপ্রশ্বাস আবার স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল। এটি বুঝতে পেরেই আমি পরিবারকে জানাই এবং আবার হাসপাতালে নিয়ে যাই। ও মৃত্যুকে জয় করল!’’হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও সঠিক চিকিৎসার ফলে ওই নারীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হয়েছে এবং এক দিনের মধ্যেই তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠেন।এদিকে বাড়ি ফিরে ওই নারী স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তাও বলছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
প্রতিদিনের বান্দরবান
কপিরাইট © ২০২৬ প্রতিদিনের বান্দরবান । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত