প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬
৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বান্দরবান তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা বরখাস্ত
ডেস্ক নিউজ, প্রতিদিনের বান্দরবান ||
বান্দরবানের তুলা উন্নয়ন বোর্ডে সরকারি চেক জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বিলের চেকে ঘষামাজা করে প্রায় ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ইউনিট অফিসার উটিংওয়াং মার্মাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।সরকারি নথি ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, অভিযুক্ত উটিংওয়াং মার্মা ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অত্যন্ত চতুরতার সাথে অর্থ জালিয়াতি করে। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক বেতন বিলের বিপরীতে ইস্যু করা চেকগুলো কৌশলে ঘষামাজা করে অংকের পরিবর্তন ঘটিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। প্রাথমিক তদন্তের একপর্যায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বাসা থেকে আত্মসাৎকৃত অর্থের একটি বড় অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পরবর্তীতে উটিংওয়াং মার্মা নিজের অপরাধ স্বীকার করে লিখিত জবানবন্দি প্রদান করেন।এদিকে, এই অনিয়মের প্রেক্ষিতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ গত ৪ মার্চ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ এর বিধি ১২(১) অনুযায়ী তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করে। পরবর্তীতে ১৬ মার্চ তুলা উন্নয়ন বোর্ড থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন মৃধা।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের শতভাগ সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অপরাধের গভীরতা বিবেচনায় তাঁকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে এই আর্থিক কেলেঙ্কারিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং আঙুল উঠেছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিকেও।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের এক কর্মচারী দাবি করেছেন, ব্যাংক লেনদেনের সময় এসএমএসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবগত থাকার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তা করা হয়নি তা রহস্যজনক। এর ফলে প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তার পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।অন্যদিকে, এই ঘটনার পর থেকে অফিসের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ থাকায় তাঁরা চরম আর্থিক সংকটের কারনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।এই বিষয়ে অভিযুক্ত তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ইউনিট অফিসার উটিংওয়াং মার্মা’র নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।জেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান মো. আলমগীর হোসেন মৃধা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রতিদিনের বান্দরবান
কপিরাইট © ২০২৬ প্রতিদিনের বান্দরবান । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত