প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
লামায় জাতিগত আক্রোশে স্কুল শিক্ষককে ফাঁসানোর অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের বান্দরবান ||
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার বোচাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং মব তৈরির চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যে জানা গেছে, ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত আক্রোশ থেকে শিক্ষককে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছে।বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ইংরেজি শিক্ষক জনাব ফরিদ আজ (বুধবার) ক্লাসে পাঠদানকালে ভুক্তভোগী দাবি করা ৭ বছর বয়সী ছাত্রীকে পড়া জিজ্ঞাসা করেন। ওই ছাত্রী পড়া বলতে না পারায় শিক্ষক তাকে একটি থাপ্পড় দেন। পরবর্তীতে ওই ছাত্রী আরও দুটি ক্লাস শেষ করে স্বাভাবিকভাবে স্কুল ছুটি হওয়ার পর বাড়িতে ফিরে যায়।বাড়িতে ফেরার পর শিশুটি কান্নাকাটি করলে তার মা এর কারণ জানতে চান। এক পর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্থানীয় কিছু উশৃঙ্খল ব্যক্তি ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালায়। তারা দাবি করে যে, শিক্ষক ফরিদ শিশুটিকে ধর্ষণ করেছেন। এই মিথ্যা অজুহাতে একদল মানুষ উত্তেজিত হয়ে স্কুলে এসে শিক্ষকের ওপর চড়াও হওয়ার এবং মব তৈরির চেষ্টা করে।অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফরিদুল আলমের কাছ থেকে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি হালকা একটা চড় দিয়েছিলাম ঠিক কিন্তু শিশুটি হয়তো ভয় পেয়েছে, তারপরে ও আমি এবং আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সহ সকল শিক্ষক মিলে তার বাড়ীতে গিয়ে দেখা করে আসি। কিন্তু দেখা করে আসার পরে আমারা সকল শিক্ষক যখন স্কুলে চলে আসি তখন ঐ গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে স্কুলের চারপাশে ঘিরে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক, স্থানীয় ইউপি সদস্য, চৌকিদার ও এলাকাবাসীর সামনে আমাকে রজনী এিপুরা মারধর সহ লাঞ্ছিত করায়,পরবর্তীতে বিষয় টি আমি আমার সিনিয়র ঊর্ধ্বতম কর্মকর্তাদের অবগতি করি। এক পর্যায়ে বেশ কিছু স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা স্কুলের সামনে অতিরিক্ত গালিগালাজ করে আমাদের স্কুলের সকল শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখলে আমরা পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় ঐ স্থান থেকে চলে আসতে সক্ষম হয়।লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, ছাত্রীকে মারধরের ঘটনা তার পরিবার অবগত করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্তে সহকারী শিক্ষক ফরিদুল আলম দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ত্রিরতন চাকমা বলেন, শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি আপনারা যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন আমরাও সেভাবেই শুনেছি। এখনো কোনো অভিযোগ পায়নি, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।এদিকে ঘটনার পর থেকে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং প্রশাসনও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
প্রতিদিনের বান্দরবান
কপিরাইট © ২০২৬ প্রতিদিনের বান্দরবান । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত