প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬
লামায় ঠিকাদারের গাফিলতিতে সড়ক ও ব্রিজের নির্মাণ কাজ বন্ধ
বিপ্লব দাশ, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি; ||
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের কুমারী চাক কাটা সড়কের উন্নয়ন কাজ ও ব্রিজ নির্মাণে চরম অনিয়ম ও ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) অধীনে চলমান এই সড়কের কাজ অর্ধেক করার পর ঠিকাদার মেহেদী হাসান কাজ ফেলে রেখে চলে যাওয়ায় ৬টি গ্রামের হাজার হাজার বাসিন্দা এখন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক ও ব্রিজ সংস্কারের জন্য নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) হওয়ার পর ঠিকাদারের লোকজন কুমারী স্কুল পাড়া এলাকার পুরনো ও সচল ব্রিজটি ভেঙে ফেলে। অভিযোগ উঠেছে, পুরাতন ব্রিজটি ভেঙে তার রড, ইট ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ঠিকাদার বিক্রি করে দিয়েছেন।নতুন ব্রিজ নির্মাণ না করেই কাজ ফেলে রাখায় বর্তমানে সামান্য বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢল ও পানির তোড়ে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে কোনোমতে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি নড়বড়ে সাঁকো তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। এলাকাবাসীর প্রশ্ন কাজ যদি নাই করা হবে, তবে সচল পুরাতন ব্রিজটি ভেঙে ফেলার কী প্রয়োজন ছিল?কাদায় বেহাল সড়ক, যাতায়াত বন্ধচলমান ম্যাকাডাম (খোয়া বিছানোর) কাজ মাঝপথে বন্ধ থাকায় এবং সাম্প্রতিক বর্ষায় সড়কটি এখন সম্পূর্ণ কাদামাটিতে পরিণত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও নালা তৈরি হয়েছে। কোনো ধরনের যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলের উপায়ও নেই।সড়ক ও ব্রিজের এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে এলাকার স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও তীব্র অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ৬টি গ্রামের কৃষিজীবী মানুষ তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না, যার ফলে তারা অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, ঠিকাদার মেহেদী হাসান কাজ অসমাপ্ত রেখে গায়েব হয়ে যাওয়ায় তারা বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা পাননি। এই বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।সংশ্লিষ্ট এলজিইডি (LGED) কর্তৃপক্ষ এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, অতি দ্রুত এই জনগুরুত্বপূর্ণ কুমারী চাক কাটা সড়কের কাজ পুনরায় শুরু করে ব্রিজটি নির্মাণ করা হোক এবং জনভোগান্তি দূর করতে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।লামা উপজেলা প্রকৌশলী (LGED)আবু হানিফ জানান,বিষয় টি আমি জেনেছি ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে, জনভোগান্তি দূর করতে দ্রুত পুনরায় কাজ শুরু করে ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণ কাজ সম্পাদন করা হবে।
প্রতিদিনের বান্দরবান
কপিরাইট © ২০২৬ প্রতিদিনের বান্দরবান । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত