প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারতে পারবে স্বামী
||
নারীদের বিরুদ্ধে আবারও অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। ব্রিটিশ অনলাইন সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সরকার স্বামীদের তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দিয়ে পারিবারিক সহিংসতার ‘বৈধতা’ দিয়েছে।তবে নতুন এই আইনে বলা হয়েছে, মারধরের ফলে ‘হাড় ভেঙে গেলে’ বা ‘জখম হলে’ স্বামীদের শাস্তি পেতে হবে। এনিয়ে ইতোমধ্যে তালেবান সরকার নতুন একটি ফৌজদারি আইন জারি করেছে। আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটির সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ৯০ পাতার নতুন এই দণ্ডবিধিটিতে স্বাক্ষর করেছেন।ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, পশতু ভাষায় ‘দ্য মাহাকুমু জাজাই উসুলনামা’ বা ‘আদালতের ফৌজদারি বা দণ্ডবিধি সংক্রান্ত নিয়মাবলী’ নামের এই বিধিমালা আফগানিস্তানের আদালতগুলোতে পাঠানো হয়েছে। নতুন এই দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন ধরনের বর্ণ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। অপরাধী ‘মুক্ত’ নাকি ‘দাস’, তার ওপর ভিত্তি করে শাস্তির মাত্রাও ভিন্ন হবে।এই আইন অনুযায়ী, কোনো স্বামী ‘অতিরিক্ত মাত্রার শক্তি’ ব্যবহার করে স্ত্রীর হাড় ভাঙলে বা দৃশ্যমান জখম করলে তাঁর ১৫ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে স্বামী তখনই দোষী সাব্যস্ত হবে যখন স্ত্রী তাঁর ওপর হওয়া নির্যাতন আদালতে সফলভাবে প্রমাণ করতে পারবেন।এ ছাড়া নতুন আইনে বলা হয়েছে, নির্যাতিত নারী পুরোপুরি হিজাব পরা অবস্থায় তাঁর জখম বিচারককে দেখাতে পারবেন। তবে এমন পরিস্থিতিতে তাঁর স্বামী অথবা প্রাপ্তবয়স্ক কোনো পুরুষকে অবশ্যই সঙ্গে থাকতে হবে।অন্যদিকে বিবাহিত কোনো নারী তাঁর স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গেলে তাঁর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে, এমন কার্যকলাপের জন্য স্ত্রীর সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড হতে পারে।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আফগানিস্তানের নতুন এই দণ্ডবিধি দেশটির সমাজকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছে। এগুলো হচ্ছে ধর্মীয় বিদ্বান (উলামা), অভিজাত (আশরাফ), মধ্য শ্রেণি এবং নিম্ন শ্রেণি।এই পদ্ধতি অনুযায়ী, একই ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তি অপরাধের ধরন বা তীব্রতা দ্বারা নির্ধারিত হবে না। বরং অভিযুক্তের সামাজিক অবস্থান দ্বারা শাস্তির মাত্রা নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিদিনের বান্দরবান
কপিরাইট © ২০২৬ প্রতিদিনের বান্দরবান । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত