প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
লামায় নদীর ব্লক নির্মাণ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধ গুরুতর অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি; ||
বান্দরবানের লামা পৌরসভার ১ নং ওযার্ড চাম্পাতলী সড়কে ধুলাবালি জনজীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে। মাতামুহুরি নদী ভাঙনরোধ ব্লক নির্মাণ কাজের খোয়া, বালু ও নির্মিত ব্লক পরিবহনের ফলে সড়কটির বেহাল অবস্থা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমের কারণে তীব্র হয়েছে এই ধূলিদূষণ। এতে শ্বাসকষ্ট, এলার্জি এবং চোখের সমস্যা সৃষ্টি করছে, ফলে ঘর ও বাইরে চলাচলসহ বসবাস করা কষ্টকর হচ্ছে। ঠিকাদারী কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পানি ছিটানোর নিয়ম থাকলেও তারা তা করছেন না। নির্মাণাধীন স্থানে বেষ্টনী না দিয়ে কাজ করানোর কারণে এই দুর্ভোগ আরো চরমে উঠেছে। চাম্পাতলী গ্রামবাসীরা এর প্রতিকার চেয়ে সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক এঁর নিকট অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে প্রকাশ, বিগত প্রায় তিন মাস আগে চাম্পাতলী গ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশের মালিকানাধীন মাঠে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার ব্লক তৈরীর কাজ শুরু করে। উল্লেখ্য, পুলিশ বিভাগ মাঠটি সবজী ক্ষেতের জন্য ইজারা দিলেও ইজারাদার সেটি কংক্রিটের ব্লক নির্মাণের জন্য ঠিকাদারকে ভাড়া দেয়। ঠিকাদার সেখানে ব্লক নির্মাণের জন্য ১০ চাকার ট্রাক লরি যোগে কংক্রিট ও বালি পরিবহণ শুরু করে। এছাড়াও নির্মিত ব্লক সমুহ ট্রলি-ট্রাক্টর যোগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকায় পরিবহণ করছে।এর ফলে পরিচ্ছন্ন ও কোলাহল মুক্ত এলাকাটি উচ্চমাত্রার যান্ত্রিক শব্দ ও ধুলাবালির রাজ্যে পরিণত হয়েছে। রাতদিন বিরামহীন গাড়ী চলাচলের কারণে এলাকার বায়ু ও শব্দ দূষণ ইতোমধ্যে অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছেছে।মাত্রাতিরিক্ত ধুলাবালির কারণে বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষ ও শিশুদের শ্বাস কষ্টের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এর ফলে সবচে' বেশি স্বাস্থ্য ও চলাচলে ঝুঁকির সম্মুখিন হচ্ছে চাম্পাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী শিশুরা। ধুলাবালির কারণে রাস্তার পার্শ্বে বসবাসকারীদের সারা দিন ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হয় যার, ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবণ যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।লামা পৌরসভা কর্তৃক সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) টনের গাড়ী চলাচলের উপযোগী করে নির্মিত অত্র এলাকার যোগাযোগের একমাত্র রাস্তাটি দিয়ে ১০ চাকার ট্রাকে চল্লিশ টনের অধিক মালামাল পরিবহণ করানোর ফলে, চাম্পাতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তাটি ভেঙ্গে এবং দুই পাশ দেবে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আসন্ন বর্ষায় সম্পুর্ন ভেঙে জন চলাচল পুরো রাস্তা আর ব্যবহারের উপযোগিতা হারিয়ে মারাত্নক ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে বিগত নভেম্বর মাসে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে মৌখিক অভিযোগ করা হলেও তারা কর্ণপাত করেন নাই। এ বিষয়ে জানতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলীকে মুঠোফোনে কল করা হয়, তিঁনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নাই।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী জানান, তাদের কাজের প্রায় শেষ পর্যায়ে তবে পানি ছিটিয়ে জনদুর্ভোগ লাগবে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এবং সেটা করা হবে।
প্রতিদিনের বান্দরবান
কপিরাইট © ২০২৬ প্রতিদিনের বান্দরবান । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত