প্রতিদিনের বান্দরবান

কক্সবাজার সদর এসিল্যান্ড কার্যালয় সহকারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ



কক্সবাজার সদর এসিল্যান্ড কার্যালয় সহকারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কথা থাকলেও বাস্তবে উল্টো চিত্রের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়-এ। কার্যালয়ের অফিস সহকারী উথাইনচিং চাকমার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নথি আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাপ্রার্থী।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও তাদের ফাইল দীর্ঘদিন ধরে অকারণে আটকে রাখা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষায়, “টাকা ছাড়া এখানে কোনো ফাইল এগোয় না। বারবার ধরনা দিলেও কাজ হয় না।”

সূত্র জানায়, খুরুশকুল ডেইল পাড়া এলাকার ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন আইনে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খতিয়ানভুক্ত মালিকানা সংক্রান্ত রেকর্ড যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এসিল্যান্ড কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেন। পরবর্তীতে খুরুশকুল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গত ২২ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন প্রেরণ করেন বলে জানা গেছে।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবেদন কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরও তা তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়নি। প্রায় এক মাস ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই নথি আটকে রাখা হয়। বাদীপক্ষের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করা হলেও তা না পাওয়ায় অফিস সহকারী উথাইনচিং চাকমা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবেদনটি গোপন করে রাখেন। একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাননি তারা।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, “একটি আদালত-নির্দেশিত তদন্তের নথি পর্যন্ত যদি ঘুষ ছাড়া এগোয় না, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে কীভাবে?”

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত উথাইনচিং চাকমার ব্যবহৃত মোবাইল যোগাযোগ করলে জানান :- এইখানে আমার কোন কাজ নাই তারা শুধু শুধু আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ছাড়াচ্ছে। এই ব্যাপারে এসিল্যান্ডের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

অভিযোগকারীরা মনে করছেন, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়; বরং পুরো সেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহিতা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

প্রতিদিনের বান্দরবান

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


কক্সবাজার সদর এসিল্যান্ড কার্যালয় সহকারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কথা থাকলেও বাস্তবে উল্টো চিত্রের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়-এ। কার্যালয়ের অফিস সহকারী উথাইনচিং চাকমার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নথি আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাপ্রার্থী।


ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও তাদের ফাইল দীর্ঘদিন ধরে অকারণে আটকে রাখা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষায়, “টাকা ছাড়া এখানে কোনো ফাইল এগোয় না। বারবার ধরনা দিলেও কাজ হয় না।”

সূত্র জানায়, খুরুশকুল ডেইল পাড়া এলাকার ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন আইনে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খতিয়ানভুক্ত মালিকানা সংক্রান্ত রেকর্ড যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এসিল্যান্ড কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেন। পরবর্তীতে খুরুশকুল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গত ২২ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন প্রেরণ করেন বলে জানা গেছে।


কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবেদন কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরও তা তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়নি। প্রায় এক মাস ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই নথি আটকে রাখা হয়। বাদীপক্ষের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করা হলেও তা না পাওয়ায় অফিস সহকারী উথাইনচিং চাকমা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবেদনটি গোপন করে রাখেন। একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাননি তারা।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, “একটি আদালত-নির্দেশিত তদন্তের নথি পর্যন্ত যদি ঘুষ ছাড়া এগোয় না, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে কীভাবে?”


এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত উথাইনচিং চাকমার ব্যবহৃত মোবাইল যোগাযোগ করলে জানান :- এইখানে আমার কোন কাজ নাই তারা শুধু শুধু আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ছাড়াচ্ছে। এই ব্যাপারে এসিল্যান্ডের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া মেলেনি।


অভিযোগকারীরা মনে করছেন, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়; বরং পুরো সেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহিতা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


প্রতিদিনের বান্দরবান

সম্পাদক ও প্রকাশকের কার্যালয়ঃ
কপিরাইট © ২০২৬ প্রতিদিনের বান্দরবান । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত