বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে দরিদ্র শিশুদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ ও উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের প্রকল্পের টাকা নিয়ে নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নামমাত্র কিছু শিশুকে সামান্য কিছু স্কুল ব্যাগ, খাতা ও কলম দিয়ে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা লুটপাট করার অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।
এই হরিলুটের ঘটনার গভীরে অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে খোদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বরত প্রশাসক মো. মঈন উদ্দিনের একের পর এক দুর্নীতির দীর্ঘ ফিরিস্তি।
স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের মূল চালিকাশক্তি যেখানে তিনি নিজেই, সেখানে তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রশ্রয় ছাড়া কীভাবে সরকারি টাকা এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে ভাগবাটোয়ারা হয়— তা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, লামা উপজেলা পরিষদের গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখের রেজুলেশন অনুযায়ী উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ২য় কিস্তির বরাদ্দের অনুকূলে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে মোট সাতটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। উক্ত কর্মসূচীর আওতায় ইউনিয়নের প্রথম শ্রেণীর দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ, মোজা ও জুতা বিতরণের জন্য ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, ৯টি স্কুলের মাত্র ১৩৫ জন শিশুকে ১টি স্কুল ব্যাগ, ১টি জ্যামিতি বক্স, ৩টি খাতা ও ৩টি কমদামী কলম দিয়ে পুরো টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে।
৩নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হোসেন মামুন বলেন, "আমার ওয়ার্ডে উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে, তার সাথে প্রকল্পের মূল তালিকার কোনো মিল নেই।"
শিক্ষা সামগ্রীর পাশাপাশি ২য় কিস্তির অধীনে অবকাঠামো ও সেচ খাতে অনুমোদিত মোট ১৭ লাখ ৫২ হাজার ৯০০ টাকার প্রকল্পগুলোতেও রয়েছে অনিয়মের পাহাড়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে— হারগাজা থাঙ্কুই পাড়া মেইন রোড হতে মংবাচিং এর বাড়ি পর্যন্ত ফ্ল্যাট সলিংকরণ (বরাদ্দ ২.৫০ লাখ টাকা), রাংগা ঝিরি আর্মি রাসেলের বাড়ি থেকে পূর্ব পাড়া যাতায়াতের রাস্তা এইচবিবি করণ (বরাদ্দ ৩ লাখ টাকা), পশ্চিম হায়দারনাশী রফিকের বাড়ি থেকে সাহাব উদ্দিন মাস্টার এর বাড়ি পর্যন্ত ড্রেনসহ রাস্তা এইচবিবি করণ (বরাদ্দ ৩ লাখ টাকা), ইয়াংছা কাঁঠালছড়ায় নুরুচ্ছফা সর্দার পাড়া যাতায়াতের রাস্তা এইচবিবি করণ (বরাদ্দ ৩ লাখ টাকা), হিমছড়ি মনুর বাড়ি থেকে মসজিদের যাতায়াতের রাস্তায় ফ্ল্যাট সলিংকরণ (বরাদ্দ ২.৫০ লাখ টাকা) এবং মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সে আইপিএসসহ সোলার স্থাপন ও কটেজ রংকরণ (বরাদ্দ ৩.৫২ লাখ টাকা)।
অভিযোগ উঠেছে, ইউপি প্রশাসকের নাকের ডগায় বসে এসব প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন ও টাকা ভাগবাটোয়ারা করার পাঁয়তারা চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে জানান, "পরিষদের ইউপি সচিব আমাকে উন্নয়ন তহবিলের ৩ লাখ টাকার কাজ মাত্র ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় তড়িঘড়ি শেষ করতে নির্দেশ দেন। বাকি ৯০ হাজার টাকা কার পকেটে যাবে এবং এর পেছনে উপরের কার হাত রয়েছে তা সহজেই অনুমেয়।"
কেঁচো খুঁড়তে সাপ: বেরিয়ে এলো ইউএনও-এর দুর্নীতির দীর্ঘ ফিরিস্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের লুটপাট কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। লামা উপজেলার প্রশাসনিক প্রধান মো. মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক গুরুতর আর্থিক কেলেঙ্কারি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
১. আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে এবং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্পট নিলামের নামে সরকারকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে ইউএনও মো. মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন আজিজনগর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ও দুদকের পক্ষ থেকে তদন্তের প্রক্রিয়াও শুরু হয়।
২. অবৈধ বালু বাণিজ্য ও ব্রিজ ধস: তাঁর দায়িত্বকালে লামা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৪০টিরও বেশি স্পটে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলে। অতিরিক্ত লোড নিয়ে অবৈধ বালুর গাড়ি চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ধ্বংসসহ দুটি সরকারি ব্রিজ ধসে পড়ে এবং আরও কয়েকটি ব্রিজ ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
৩. ঘুষের ভিডিও ভাইরাল কেলেঙ্কারি: লম্বাশিয়া এলাকার ইটভাটার মালিকদের কাছ থেকে মোবাইল কোর্টের ভয় দেখিয়ে ইউএনও এবং তাঁর অফিস সহায়কের নগদ ঘুষ নেওয়ার কথোপকথন সম্বলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্রভাবে ভাইরাল হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে চাপ সৃষ্টি করে এটিকে এআই বা বিকৃত ভিডিও বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সচিব মোঃ রুহুল আমিন খন্দকার তাঁর চিরাচরিত কায়দায় দায় এড়িয়ে বলেন, "দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী এখনও বিতরণ করা হয়নি। বর্ষায় যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আমরা এখনও তালিকার কাজ শেষ করতে পারিনি।" তবে মাঠ পর্যায়ে কিছু স্কুলে ইতিমধ্যে যে সামগ্রী বিতরণ হয়ে গেছে, সে বিষয়টি তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
প্রশাসনিক প্রধান ও ফাঁসিয়াখালী ইউপি প্রশাসক হিসেবে নিজের দায় এড়ানোর এবং সময়ক্ষেপণের একই ধরণের অজুহাত দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, "বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের শিক্ষা উপকরণ বিতরণের প্রকল্প এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি। গত ১৭ জুন আমরা এ বিষয়ে সভা করেছি। শীঘ্রই সামগ্রী বিতরণ করা হবে এবং সব প্রকল্পের কাজ নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।"
তবে সচেতন মহলের দাবি, মাঠ পর্যায়ে ভুয়া বিতরণের যে অভিযোগ উঠেছে এবং জুনের কাজ যেভাবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফেলে রাখা হয়েছে, তাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক হিসেবে ইউএনও-এর প্রত্যক্ষ অবহেলা ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা স্পষ্ট। তারা অবিলম্বে এই সামগ্রিক দুর্নীতি ও হরিলুটের ঘটনায় জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দোষী কর্মকর্তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পরবর্তী পর্বে চোখ রাখুন....

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে দরিদ্র শিশুদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ ও উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের প্রকল্পের টাকা নিয়ে নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নামমাত্র কিছু শিশুকে সামান্য কিছু স্কুল ব্যাগ, খাতা ও কলম দিয়ে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা লুটপাট করার অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।
এই হরিলুটের ঘটনার গভীরে অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে খোদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বরত প্রশাসক মো. মঈন উদ্দিনের একের পর এক দুর্নীতির দীর্ঘ ফিরিস্তি।
স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের মূল চালিকাশক্তি যেখানে তিনি নিজেই, সেখানে তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রশ্রয় ছাড়া কীভাবে সরকারি টাকা এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে ভাগবাটোয়ারা হয়— তা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, লামা উপজেলা পরিষদের গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখের রেজুলেশন অনুযায়ী উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ২য় কিস্তির বরাদ্দের অনুকূলে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে মোট সাতটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। উক্ত কর্মসূচীর আওতায় ইউনিয়নের প্রথম শ্রেণীর দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ, মোজা ও জুতা বিতরণের জন্য ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, ৯টি স্কুলের মাত্র ১৩৫ জন শিশুকে ১টি স্কুল ব্যাগ, ১টি জ্যামিতি বক্স, ৩টি খাতা ও ৩টি কমদামী কলম দিয়ে পুরো টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে।
৩নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হোসেন মামুন বলেন, "আমার ওয়ার্ডে উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে, তার সাথে প্রকল্পের মূল তালিকার কোনো মিল নেই।"
শিক্ষা সামগ্রীর পাশাপাশি ২য় কিস্তির অধীনে অবকাঠামো ও সেচ খাতে অনুমোদিত মোট ১৭ লাখ ৫২ হাজার ৯০০ টাকার প্রকল্পগুলোতেও রয়েছে অনিয়মের পাহাড়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে— হারগাজা থাঙ্কুই পাড়া মেইন রোড হতে মংবাচিং এর বাড়ি পর্যন্ত ফ্ল্যাট সলিংকরণ (বরাদ্দ ২.৫০ লাখ টাকা), রাংগা ঝিরি আর্মি রাসেলের বাড়ি থেকে পূর্ব পাড়া যাতায়াতের রাস্তা এইচবিবি করণ (বরাদ্দ ৩ লাখ টাকা), পশ্চিম হায়দারনাশী রফিকের বাড়ি থেকে সাহাব উদ্দিন মাস্টার এর বাড়ি পর্যন্ত ড্রেনসহ রাস্তা এইচবিবি করণ (বরাদ্দ ৩ লাখ টাকা), ইয়াংছা কাঁঠালছড়ায় নুরুচ্ছফা সর্দার পাড়া যাতায়াতের রাস্তা এইচবিবি করণ (বরাদ্দ ৩ লাখ টাকা), হিমছড়ি মনুর বাড়ি থেকে মসজিদের যাতায়াতের রাস্তায় ফ্ল্যাট সলিংকরণ (বরাদ্দ ২.৫০ লাখ টাকা) এবং মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সে আইপিএসসহ সোলার স্থাপন ও কটেজ রংকরণ (বরাদ্দ ৩.৫২ লাখ টাকা)।
অভিযোগ উঠেছে, ইউপি প্রশাসকের নাকের ডগায় বসে এসব প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন ও টাকা ভাগবাটোয়ারা করার পাঁয়তারা চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে জানান, "পরিষদের ইউপি সচিব আমাকে উন্নয়ন তহবিলের ৩ লাখ টাকার কাজ মাত্র ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় তড়িঘড়ি শেষ করতে নির্দেশ দেন। বাকি ৯০ হাজার টাকা কার পকেটে যাবে এবং এর পেছনে উপরের কার হাত রয়েছে তা সহজেই অনুমেয়।"
কেঁচো খুঁড়তে সাপ: বেরিয়ে এলো ইউএনও-এর দুর্নীতির দীর্ঘ ফিরিস্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের লুটপাট কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। লামা উপজেলার প্রশাসনিক প্রধান মো. মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক গুরুতর আর্থিক কেলেঙ্কারি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
১. আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে এবং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্পট নিলামের নামে সরকারকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে ইউএনও মো. মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন আজিজনগর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ও দুদকের পক্ষ থেকে তদন্তের প্রক্রিয়াও শুরু হয়।
২. অবৈধ বালু বাণিজ্য ও ব্রিজ ধস: তাঁর দায়িত্বকালে লামা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৪০টিরও বেশি স্পটে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলে। অতিরিক্ত লোড নিয়ে অবৈধ বালুর গাড়ি চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ধ্বংসসহ দুটি সরকারি ব্রিজ ধসে পড়ে এবং আরও কয়েকটি ব্রিজ ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
৩. ঘুষের ভিডিও ভাইরাল কেলেঙ্কারি: লম্বাশিয়া এলাকার ইটভাটার মালিকদের কাছ থেকে মোবাইল কোর্টের ভয় দেখিয়ে ইউএনও এবং তাঁর অফিস সহায়কের নগদ ঘুষ নেওয়ার কথোপকথন সম্বলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্রভাবে ভাইরাল হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে চাপ সৃষ্টি করে এটিকে এআই বা বিকৃত ভিডিও বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সচিব মোঃ রুহুল আমিন খন্দকার তাঁর চিরাচরিত কায়দায় দায় এড়িয়ে বলেন, "দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী এখনও বিতরণ করা হয়নি। বর্ষায় যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আমরা এখনও তালিকার কাজ শেষ করতে পারিনি।" তবে মাঠ পর্যায়ে কিছু স্কুলে ইতিমধ্যে যে সামগ্রী বিতরণ হয়ে গেছে, সে বিষয়টি তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
প্রশাসনিক প্রধান ও ফাঁসিয়াখালী ইউপি প্রশাসক হিসেবে নিজের দায় এড়ানোর এবং সময়ক্ষেপণের একই ধরণের অজুহাত দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, "বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের শিক্ষা উপকরণ বিতরণের প্রকল্প এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি। গত ১৭ জুন আমরা এ বিষয়ে সভা করেছি। শীঘ্রই সামগ্রী বিতরণ করা হবে এবং সব প্রকল্পের কাজ নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।"
তবে সচেতন মহলের দাবি, মাঠ পর্যায়ে ভুয়া বিতরণের যে অভিযোগ উঠেছে এবং জুনের কাজ যেভাবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফেলে রাখা হয়েছে, তাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক হিসেবে ইউএনও-এর প্রত্যক্ষ অবহেলা ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা স্পষ্ট। তারা অবিলম্বে এই সামগ্রিক দুর্নীতি ও হরিলুটের ঘটনায় জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দোষী কর্মকর্তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পরবর্তী পর্বে চোখ রাখুন....

আপনার মতামত লিখুন