আদালতের রায়ে দলিল ‘জাল’ সাব্যস্ত হয়ে আসামিরা জেলে যাওয়ার ঠিক ৮ দিন পর, কোনো আইনি বালাম পুনর্গঠন ছাড়াই উধাও হয়ে যাওয়া দলিলের ‘অবিকল নকল’ প্রত্যয়ন করে দিলেন ইউএনও ও রেজিস্ট্রেশন অফিসার মোঃ মাইন উদ্দিন! এক কর্মকর্তার এক বছরের ব্যবধানে আকাশ-পাতাল উল্টো অবস্থান নিয়ে বিচার বিভাগে তোলপাড়।
বান্দরবানের লামা উপজেলায় আইনের শাসন ও প্রশাসনিক নৈতিকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এক নজিরবিহীন এবং রোমহর্ষক জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।
এক বছর আগে পুলিশকে দেয়া নোটিশ
শিলেরতুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া বেগমের বিতর্কিত ও বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে ‘জাল ও ভুয়া’ প্রমাণিত ৬৪৮/১৯৯৮ নম্বর দলিলটিকে জাদুর কাঠি দিয়ে রাতারাতি বৈধ করার অপচেষ্টায় নেমেছেন খোদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও রেজিস্ট্রেশন অফিসার মোঃ মাইন উদ্দিন। তার এই চরম রহস্যজনক ভূমিকা এখন গোটা জেলা ছাড়িয়ে দেশজুড়ে প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত অকাট্য দালিলিক প্রমাণ বলছে, গত বছরের ২৮ আগস্ট বর্তমান ইউএনও মোঃ মাইন উদ্দিন নিজেই একটি অফিসিয়াল চিঠিতে (স্মারক নং- ০৫.৪২.০৩৫১.২০৪.১২.০২৮.২৫-১১২৩) পুলিশকে স্পষ্ট ও অলিখিত ভাষায় জানিয়ে দেন— ৬৪৮/১৯৯৮ নং দলিলটি বালাম বহিতে সংরক্ষিত নেই। অর্থাৎ, এর কোনো অস্তিত্বই সরকারি নথিতে ছিল না এবং এর নকল সরবরাহ করা আইনত অসম্ভব। সরকারি রেকর্ড রুমে দলিলের কোনো অস্তিত্ব না থাকায় এবং জালিয়াতি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পুলিশ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। এর প্রেক্ষিতে গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দলিলটিকে সম্পূর্ণ 'জাল' সাব্যস্ত করে শিলেরতুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া বেগম ও জালিয়াতির মূল কারিগর দলিল লেখক মিলন কান্তি চৌধুরীসহ চার আসামিকে সরাসরি জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে আইন ও আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আসামিরা কারাগারে যাওয়ার ঠিক ৮ দিন পর, অর্থাৎ গত ২ জুন ২০২৬ তারিখে ঘটে প্রশাসনের ইতিহাসের সবচেয়ে লজ্জাজনক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। যে কর্মকর্তা এক বছর আগে পুলিশকে লিখিত প্রতিবেদন দিয়ে বলেছিলেন "দলিল বালামে নাই", এবং যে দলিলের জালিয়াতির অপরাধে আসামিরা অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ঘানি টানছেন— কোনো প্রকার আইনি বালাম পুনর্গঠন (Reconstruction of Volume Book) ছাড়াই হঠাৎ করে স্বয়ং ইউএনও মোঃ মাইন উদ্দিন ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৭৬ ধারা ব্যবহার করে সেই ভুয়া দলিলের একটি ‘অবিকল নকল’ নিজের সিল ও স্বাক্ষরে প্রত্যয়ন (Certify) করে সশরীরে ইস্যু করেন!
এক বছর পরে ভুয়া দলিলের একটি ‘অবিকল নকল’ নিজের সিল ও স্বাক্ষরে প্রত্যয়ন (Certify) করে সশরীরে ইস্যু করেন!
ফলে যে তীব্র ও জ্বলন্ত প্রশ্নগুলো এখন প্রশাসনকে তাড়া করছে:
ক) বালামে যদি দলিল না-ই থাকে, তবে এক বছর পর তা কোন অদৃশ্য জাদুমন্ত্রে গজিয়ে উঠল?
খ) রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী কোনো ভলিউম বা বালাম ধ্বংস বা হারিয়ে গেলে তা পুনর্গঠনের একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। লামা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কি মাঝরাতে নতুন কোনো ভূতুড়ে পাতা জোড়া দেওয়া হয়েছে?
গ) যদি দলিলটি শুরু থেকেই বালামে সংরক্ষিত থেকে থাকে, তবে এক বছর আগে পুলিশকে কেন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেন রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা?
ঘ) পুলিশের তদন্ত নস্যাৎ করা এবং বিজ্ঞ আদালতকে ধোঁকা দেওয়ার পেছনে তার গোপন এজেন্ডা ও স্বার্থ কী ছিল?
এর আগে অভিযোগের বিষয়ে জানতে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাইন উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
আইন বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট অভিমত, আদালতের রায়ের পর তড়িঘড়ি করে নিখোঁজ দলিলের নকল বের করে দেওয়া সরাসরি আদালত অবমাননা, বিচার বিভাগের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের শামিল। জালিয়াতির আসামিদের বাঁচাতে এই রহস্যজনক "অবিকল নকল" তৈরির পেছনে কোটি টাকার কোনো অন্ধকার লেনদেন নাকি অন্য কোনো রাঘববোয়ালের চাপ কাজ করেছে, তা অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও উচ্চতর বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচন করা সময়ের দাবি।
পরবর্তী পর্ব আসছে...

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আদালতের রায়ে দলিল ‘জাল’ সাব্যস্ত হয়ে আসামিরা জেলে যাওয়ার ঠিক ৮ দিন পর, কোনো আইনি বালাম পুনর্গঠন ছাড়াই উধাও হয়ে যাওয়া দলিলের ‘অবিকল নকল’ প্রত্যয়ন করে দিলেন ইউএনও ও রেজিস্ট্রেশন অফিসার মোঃ মাইন উদ্দিন! এক কর্মকর্তার এক বছরের ব্যবধানে আকাশ-পাতাল উল্টো অবস্থান নিয়ে বিচার বিভাগে তোলপাড়।
বান্দরবানের লামা উপজেলায় আইনের শাসন ও প্রশাসনিক নৈতিকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এক নজিরবিহীন এবং রোমহর্ষক জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।
এক বছর আগে পুলিশকে দেয়া নোটিশ
শিলেরতুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া বেগমের বিতর্কিত ও বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে ‘জাল ও ভুয়া’ প্রমাণিত ৬৪৮/১৯৯৮ নম্বর দলিলটিকে জাদুর কাঠি দিয়ে রাতারাতি বৈধ করার অপচেষ্টায় নেমেছেন খোদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও রেজিস্ট্রেশন অফিসার মোঃ মাইন উদ্দিন। তার এই চরম রহস্যজনক ভূমিকা এখন গোটা জেলা ছাড়িয়ে দেশজুড়ে প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত অকাট্য দালিলিক প্রমাণ বলছে, গত বছরের ২৮ আগস্ট বর্তমান ইউএনও মোঃ মাইন উদ্দিন নিজেই একটি অফিসিয়াল চিঠিতে (স্মারক নং- ০৫.৪২.০৩৫১.২০৪.১২.০২৮.২৫-১১২৩) পুলিশকে স্পষ্ট ও অলিখিত ভাষায় জানিয়ে দেন— ৬৪৮/১৯৯৮ নং দলিলটি বালাম বহিতে সংরক্ষিত নেই। অর্থাৎ, এর কোনো অস্তিত্বই সরকারি নথিতে ছিল না এবং এর নকল সরবরাহ করা আইনত অসম্ভব। সরকারি রেকর্ড রুমে দলিলের কোনো অস্তিত্ব না থাকায় এবং জালিয়াতি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পুলিশ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। এর প্রেক্ষিতে গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দলিলটিকে সম্পূর্ণ 'জাল' সাব্যস্ত করে শিলেরতুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া বেগম ও জালিয়াতির মূল কারিগর দলিল লেখক মিলন কান্তি চৌধুরীসহ চার আসামিকে সরাসরি জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে আইন ও আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আসামিরা কারাগারে যাওয়ার ঠিক ৮ দিন পর, অর্থাৎ গত ২ জুন ২০২৬ তারিখে ঘটে প্রশাসনের ইতিহাসের সবচেয়ে লজ্জাজনক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। যে কর্মকর্তা এক বছর আগে পুলিশকে লিখিত প্রতিবেদন দিয়ে বলেছিলেন "দলিল বালামে নাই", এবং যে দলিলের জালিয়াতির অপরাধে আসামিরা অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ঘানি টানছেন— কোনো প্রকার আইনি বালাম পুনর্গঠন (Reconstruction of Volume Book) ছাড়াই হঠাৎ করে স্বয়ং ইউএনও মোঃ মাইন উদ্দিন ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৭৬ ধারা ব্যবহার করে সেই ভুয়া দলিলের একটি ‘অবিকল নকল’ নিজের সিল ও স্বাক্ষরে প্রত্যয়ন (Certify) করে সশরীরে ইস্যু করেন!
এক বছর পরে ভুয়া দলিলের একটি ‘অবিকল নকল’ নিজের সিল ও স্বাক্ষরে প্রত্যয়ন (Certify) করে সশরীরে ইস্যু করেন!
ফলে যে তীব্র ও জ্বলন্ত প্রশ্নগুলো এখন প্রশাসনকে তাড়া করছে:
ক) বালামে যদি দলিল না-ই থাকে, তবে এক বছর পর তা কোন অদৃশ্য জাদুমন্ত্রে গজিয়ে উঠল?
খ) রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী কোনো ভলিউম বা বালাম ধ্বংস বা হারিয়ে গেলে তা পুনর্গঠনের একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। লামা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কি মাঝরাতে নতুন কোনো ভূতুড়ে পাতা জোড়া দেওয়া হয়েছে?
গ) যদি দলিলটি শুরু থেকেই বালামে সংরক্ষিত থেকে থাকে, তবে এক বছর আগে পুলিশকে কেন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেন রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা?
ঘ) পুলিশের তদন্ত নস্যাৎ করা এবং বিজ্ঞ আদালতকে ধোঁকা দেওয়ার পেছনে তার গোপন এজেন্ডা ও স্বার্থ কী ছিল?
এর আগে অভিযোগের বিষয়ে জানতে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাইন উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
আইন বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট অভিমত, আদালতের রায়ের পর তড়িঘড়ি করে নিখোঁজ দলিলের নকল বের করে দেওয়া সরাসরি আদালত অবমাননা, বিচার বিভাগের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের শামিল। জালিয়াতির আসামিদের বাঁচাতে এই রহস্যজনক "অবিকল নকল" তৈরির পেছনে কোটি টাকার কোনো অন্ধকার লেনদেন নাকি অন্য কোনো রাঘববোয়ালের চাপ কাজ করেছে, তা অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও উচ্চতর বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচন করা সময়ের দাবি।
পরবর্তী পর্ব আসছে...

আপনার মতামত লিখুন